বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬ , ০৬:৪৪ পিএম
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, পার্শ্ববর্তী দেশের পানি বণ্টনে বৈষম্যের কারণে দেশের অনেক নদী দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে এবং খালে পরিণত হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ও পদ্মা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার আমডালা এলাকায় কোনাবাড়ি-উলাইল খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছিলেন, জনগণের ম্যান্ডেট পেলে পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সারাদেশে খাল খনন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাঁচ বছরে সাড়ে সাত হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে খাল কাটা কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা ছিল একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। সে সময় দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল। খাল খননের মাধ্যমে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন হওয়ায় খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং খাদ্য ঘাটতি দূর হয়।
তিনি আরও বলেন, সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর অংশ হিসেবে খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি খালের পানিতে মাছ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আমরা চাই ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’ পরিচয়ের ঐতিহ্য ধরে রাখতে। খালকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করার মহাপরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। কিন্তু দীর্ঘদিনের অবহেলা ও অযত্নে অনেক নদী নাব্যতা হারিয়েছে। এসব নদী ও খাল পুনরুদ্ধারে সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে। গত ১৭ বছর দেশ দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল। একদিনে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। তবে খাল খনন কার্যক্রমে সুনির্দিষ্ট অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস. এ. জিন্নাহ কবীর, জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, জেলা পরিষদের প্রশাসক জামিলুর রশিদ খানসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
খাল খনন কাজ পরিদর্শন শেষে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস. এ. জিন্নাহ কবীর খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করেন।
পরে মন্ত্রী দৌলতপুর ও সাটুরিয়া উপজেলায় আরও কয়েকটি খাল ও নদী খনন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
আরটিভি/এমএইচজে