শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ , ০২:১৯ এএম
স্কুল ফাঁকি দিয়ে একটি ঝুঁকিপূর্ণ পুকুরে গোসল করতে গিয়ে রাজবাড়ীর পাংশায় উপজেলা প্রশাসনের হাতে ধরা পড়েছে চার স্কুলশিক্ষার্থী। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিদ্যালয় থেকে বের হতে তারা স্বয়ং শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির ভুয়া আবেদনপত্র তৈরি করেছিল। তবে তাদের ক্যারিয়ারের কথা ভেবে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে এক ব্যতিক্রমী শর্তে তাদের ক্ষমা করেছেন পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক।
ভবিষ্যতে এমন অপরাধ না করার শর্তে আগামী সাত দিনের মধ্যে চার শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ অভিভাবকের উপস্থিতিতে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে ২০০টি গাছের চারা রোপণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা উপজেলা পরিষদের পূর্ব পাশের পুকুরঘাটে ইউনিফর্ম পরিহিত চার স্কুলছাত্রকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন। সন্দেহ হলে তিনি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তারা নিজেদের 'পাংশা সরকারি জর্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়' এর শিক্ষার্থী বলে পরিচয় দেয় এবং টিফিনের ছুটিতে পুকুরে সাঁতার কাটতে এসেছে বলে দাবি করে।
শিক্ষার্থীদের দাবির সত্যতা যাচাই করতে তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে উপজেলা প্রশাসন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই শিক্ষার্থীদের কাউকেই কোনো প্রকার ছুটি দেওয়া হয়নি।
এরপর তাদের উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এনে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা সত্য স্বীকার করতে বাধ্য হয়। শিক্ষার্থীরা জানায়, এক সহপাঠীর আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার উদ্দেশ্যে তারা বিদ্যালয় থেকে পালিয়েছিল এবং পথে পুকুরে গোসল করতে নামে।
বিকেলে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ডেকে পাঠানো হয়। প্রধান শিক্ষক ও অভিভাবকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা স্বীকার করে যে, তারা সুকৌশলে শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে ছুটির ভুয়া আবেদনপত্র তৈরি করেছিল এবং তা ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের দেয়াল টপকে পালিয়ে আসে।
এ বিষয়ে পাংশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রিফাতুল হক বলেন, উপজেলা পরিষদের এই পুকুরটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, এর আগেও এখানে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে চারপাশে সতর্কীকরণ সাইনবোর্ডও টানানো রয়েছে। এই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শিক্ষকের স্বাক্ষর জালিয়াতি, স্কুলের দেয়াল টপকে পালানো এবং প্রশাসনের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আটককৃত চার শিক্ষার্থীই আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী। তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট না করে একটি ইতিবাচক বার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইউএনও বলেন, অভিভাবক ও শিক্ষকদের অনুরোধ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে তাদের শেষবারের মতো সতর্ক করে ক্ষমা করা হয়েছে। তবে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী সাত দিনের মধ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অভিভাবকের উপস্থিতিতে ২০০টি করে (চারজন মিলে মোট ৮০০টি) গাছের চারা রোপণ করার শর্ত দেওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, এর মাধ্যমে তারা যেমন ভবিষ্যতে এমন অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকবে, তেমনি পরিবেশ সংরক্ষণেও এটি একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
স্কুলছাত্রদের এই জালিয়াতির ঘটনায় স্থানীয়ভাবে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও, উপজেলা প্রশাসনের এমন শিক্ষণীয় ও পরিবেশবান্ধব শাস্তির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন মহল।
আরটিভি/ এসকেডি