images

দেশজুড়ে

বেনাপোল বন্দরে ধরা পড়ল ভারতীয় ট্রাক, তল্লাশি চালিয়ে যা মিলল

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬ , ১০:৪৯ এএম

যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দরে কাগজপত্রবিহীন একটি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক জব্দ করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। 

বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত ৯টার দিকে বন্দরের ৩১ নম্বর শেড ইয়ার্ড থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়।

অভিযোগ উঠেছে, ট্রাকটিতে থাকা পণ্য ৩১ নম্বর ইয়ার্ডে ঢোকার আগেই অবৈধভাবে সরিয়ে নেয়া হয়। এরপর বিকেল ৪টার দিকে ট্রাকটি বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই ফলের মাঠ এলাকায় (৩১ নম্বর ইয়ার্ড) প্রবেশ করলে সন্দেহ হয়। পরে বন্দর কর্তৃপক্ষ কাস্টমসকে অবহিত করলে সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামীর উপস্থিতিতে ট্রাকটি তল্লাশি করা হয়।

তল্লাশিকালে ট্রাক থেকে ১৪০ বস্তা খৈল ও ৫০টি খালি বস্তা জব্দ করা হয়। পরিমাপে পণ্যের মোট ওজন ৭ হাজার ১৫৭ কেজি এবং খৈলের নিট ওজন ৬ হাজার ৯১৩ কেজি পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন
5020

স্কুল ফাঁকি দিয়ে ইউএনও’র হাতে ধরা, ৪ ছাত্রকে করতে হবে ৮০০ বৃক্ষরোপণ

কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, ভারতের একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান থেকে আমদানিকারক মেসার্স আরাফ এন্টারপ্রাইজের নামে সরিষার খৈলবাহী ভারতীয় ট্রাকটি (নম্বর: ডব্লিউবি-২৫কে-৮৪১৫) গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। পরে বৃহস্পতিবার সকালে কার্গো টার্মিনাল থেকে ট্রাকটি ৩৫ নম্বর শেডে পণ্য খালাসের তথ্য দেখিয়ে বের হয়।

বেনাপোল কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার অটল গোস্বামী বলেন, ‘ঘোষণাপত্র অনুযায়ী ট্রাকটিতে ১০ টন ৯০ কেজি পণ্য থাকার কথা ছিল। কিন্তু, বাস্তবে পাওয়া গেছে ৬ হাজার ৯১৩ কেজি। ফলে ঘোষিত পরিমাণের তুলনায় ৩ হাজার ১৭৭ কেজি খৈলের ঘাটতি রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

এদিকে পাচারের সাথে জড়িত চক্রটি কৌশল করে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে ‘মেসার্স প্রত্যয় ইন্টারন্যাশনাল’-এর নাম ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে। তবে, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাদের নাম ব্যবহারের প্রতিবাদ জানিয়ে লিখিতভাবে কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী হাফিজুর রহমান হ্যাপি লিখিত আবেদনে দাবি করেন, তার প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কে বা কারা এ অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। ট্রাকটি কিংবা পণ্যচালান গ্রহণে তাদের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী জড়িত ছিলেন না। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি তার প্রতিষ্ঠানকে যেন হয়রানি করা না হয় সেই অনুরোধও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩১ নম্বর শেডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খলিলুর রহমান বলেন, মিথ্যা ঘোষণায় আমদানিকৃত পণ্যচালানটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে কাস্টমসকে অবহিত করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে চালানটি জব্দ করা হয়েছে।

ঘটনাটি নিয়ে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। পাশাপাশি এ পাচারের সঙ্গে বড় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরটিভি/এসএইচএম