সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ০৩:৪২ এএম
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বৃদ্ধ মায়ের মুখে লাথি মেরে দাঁত ভেঙে দেওয়ার অভিযোগে এক মাদরাসাশিক্ষক ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২৮ জুন) উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ গণমাধ্যমকে জানায়, শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছেলে মনিরুল ইসলাম তার মা আনোয়ারা বেগমের (৭২) মুখে লাথি মারেন। এতে তার সামনের একটি দাঁত ভেঙে যায়। পরে আহত অবস্থায় স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বৃদ্ধ আনোয়ারা বেগম নামে একজন শুক্রবার রাতে ভর্তি হয়েছেন। আঘাতে তার একটি দাঁত ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেছে। এখন তিনি সুস্থ আছেন।
এ ঘটনায় শনিবার (২৭ জুন) আনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ছেলে মনিরুল ইসলাম ও পুত্রবধূ ফেরদৌসী ইসলামের (ঝর্ণা) বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গেছে, মনিরুল ইসলাম উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক। একই বাড়িতে বসবাসের সুযোগে তিনি ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বৃদ্ধ মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে আসছিলেন।
শ্যামনগর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. পিয়ার উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, মামলার পর অভিযান চালিয়ে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজাহারে আনোয়ারা বেগম উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে বড় ছেলে মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করে আসছিলেন। শুক্রবার রাতে পারিবারিক একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কথা–কাটাকাটির একপর্যায়ে মনিরুল ইসলাম তার মুখে লাথি মারেন। এতে একটি দাঁত ভেঙে গেলে তিনি গুরুতর আহত হন।
আরটিভি/এমএইচজে