images

দেশজুড়ে

চাঁদপুরে সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে চুরি, বাধা দেওয়ায় খুন হলেন ফাতেমা

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ০১:৪১ পিএম

প্রতিদিনের মতোই ফজরের নামাজ আদায় করতে শাশুড়িকে ডাকতে গিয়েছিলেন বড় ছেলের স্ত্রী। কিন্তু বারবার ডাকলেও ভেতর থেকে কোনো সাড়া মিলছিল না। উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে হৃদয়বিদারক দৃশ্য—রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছে বৃদ্ধা ফাতেমা বেগমের নিথর দেহ। মুহূর্তেই তার চিৎকারে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। 

সোমবার (২৯ জুন) ভোররাতে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের বেরকোটা গ্রামের মিয়াজী বাড়িতে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।

নিহত ফাতেমা বেগম (৭৫) একই গ্রামের মৃত সাদেক মিয়াজীর স্ত্রী। তার স্বামী পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন। তিন ছেলে ও দুই মেয়ের জননী ফাতেমা বেগম ঘটনার সময় বাড়িতে একাই ছিলেন।

আরও পড়ুন
4

বিদ্যালয়ের দেয়াল ধসে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (২৮ জুন) রাত সাড়ে ৯টা থেকে সোমবার ভোর ৪টার মধ্যে কোনো এক সময় সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্তরা ঘরের পশ্চিম পাশে সিঁদ কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। চুরি করতে গিয়ে ফাতেমা বেগম বাধা দিলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার থুতনি ও নাক এবং গলায় আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঘরে থাকা প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায় তারা।

পারিবারিক সূত্র জানায়, প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজের আগে বড় ছেলের স্ত্রী শাশুড়িকে ডাকতে গিয়ে কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে রক্তাক্ত অবস্থায় ফাতেমা বেগমের মরদেহ দেখতে পান।

নিহতের জামাতা মিজানুর রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমাদের পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষটিকে এভাবে হারাতে হবে কখনো ভাবিনি। যারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।

খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হাই, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল ইসলাম, রাশেদুল হকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হাই বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

আরটিভি/এমএম