সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ০৫:২৩ পিএম
পোল্ট্রি ফিড (খাদ্য) ও ওষুধের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি এবং করপোরেট সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে শত শত ডিম ভেঙে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকার ধামরাইয়ের প্রান্তিক পোল্ট্রি খামারিরা।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ধামরাই পোল্ট্রি উন্নয়ন সমবায় সমিতির ব্যানারে এই প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় বিক্ষুব্ধ খামারিরা মহাসড়কে দাঁড়িয়ে শত শত ডিম ছুড়ে ভেঙে বাজারে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির ন্যায্যমূল্যের দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া খামারিরা অভিযোগ করেন, দিন দিন পোল্ট্রি ফিড ও মুরগির ওষুধের দাম আকাশচুম্বী হচ্ছে। অথচ করপোরেট কোম্পানিগুলোর কৃত্রিম বাজার নিয়ন্ত্রণের কারণে প্রান্তিক খামারিরা ডিম ও মুরগির সঠিক মূল্য পাচ্ছেন না। উৎপাদন খরচের চেয়ে অনেক কম দামে পণ্য বিক্রি করতে গিয়ে ধামরাইয়ের শত শত সাধারণ খামারি এখন দেউলিয়া হওয়ার মুখে পড়েছেন। বড় বড় কোম্পানিগুলো সিন্ডিকেট করে সাধারণ খামারিদের ব্যবসা থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চক্রান্ত করছে বলেও তারা দাবি করেন।
কর্মসূচিতে ধামরাই পোল্ট্রি উন্নয়ন সমবায় সমিতির সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, ফিড ও ওষুধের দাম যেভাবে বেড়েছে, সেই তুলনায় ডিম-মুরগির দাম আমরা পাচ্ছি না। করপোরেট সিন্ডিকেটের কারণে প্রান্তিক খামারিরা আজ ধ্বংসের দ্বারে দাঁড়িয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই কৃত্রিম সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি জানাচ্ছি।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক খোকন আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উৎপাদন খরচই যেখানে উঠছে না, সেখানে খামার টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সরকার যদি দ্রুত সময়ের মধ্যে পোল্ট্রি ফিডের দাম না কমায় এবং ডিম-মুরগির ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না করে, তবে আমরা দেশব্যাপী আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হব।
খামারি ও ধামরাই উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব সুজন মাহমুদ বলেন, প্রান্তিক খামারিদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। লোকসান গুনতে গুনতে অনেকে খামার বন্ধ করে দিয়েছেন। এই সিন্ডিকেট ভাঙতে না পারলে দেশের পোল্ট্রি শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে এবং লাখ লাখ মানুষ বেকার হবে।
খবর পেয়ে ধামরাই থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে খামারিদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) দেবাশীষ সানা বলেন, পোল্ট্রি খামারিদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদের সংবাদ পেয়ে আমরা গিয়ে তাদের আইন-শৃঙ্খলার কোনো অবনতি না ঘটিয়ে কর্মসূচি শেষ করার অনুরোধ জানাই। পরে তারা মহাসড়ক ছেড়ে দেন। রাস্তায় ভাঙা ডিমের অংশ ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় পরিষ্কার করা হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে