মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ , ০২:১৪ পিএম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ঘণ্টায় থাকছে না। দিন-রাত একই চিত্র। ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। ব্যাহত হচ্ছে ব্যবসা-বাণিজ্য, আর ঘনঘন লোডশেডিংয়ে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষার্থীরাও।
ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পৌর শহরের পানি উত্তোলন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। এতে খাবার পানির সংকট এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে অচলাবস্থার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে কবে নাগাদ বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য দিতে পারেননি মঠবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম আমিনুল ইসলাম সুমন। তিনি জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে, সে অনুযায়ীই বিতরণ করা হচ্ছে। মঠবাড়িয়া জোনাল অফিসের আওতায় ১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
কয়েক দিন ধরেই এমন পরিস্থিতি চলছে। দিনের প্রায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। সন্ধ্যার পরও একই অবস্থা বিরাজ করছে। এমনকি রাত ২টা পেরিয়েও লোডশেডিং অব্যাহত থাকছে।
উপজেলার সাবস্টেশনের আওতাধীন সাতটি ফিডারের মধ্যে ৩ নম্বর ফিডারের আওতায় রয়েছে উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র পৌরসভা এলাকা। এছাড়া অধিকাংশ ব্যাংক ও সরকারি দপ্তরও এই ফিডারের অন্তর্ভুক্ত।
কাপুড়িয়া পট্টি এলাকার ব্যবসায়ী তানভীর হাসান বলেন, সকাল ১০টায় দোকান খোলার পর থেকে বিকেল ৫টার মধ্যে চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ গেছে। প্রতিবার প্রায় এক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ ছিল না।এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পরের ঘণ্টায় নেই। এভাবে চললে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন।
৫৬ নম্বর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আদনান আহনাফ জানায়, ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে। দিনে-রাতে বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ঠিকমতো পড়তে পারছি না। গরমে বসে থাকাও কষ্টকর হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, ঘনঘন লোডশেডিংয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন। পাশাপাশি বিদ্যুৎ না থাকায় পোল্ট্রি খামারিরাও ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
পৌর প্রশাসক আকলিমা আক্তার বলেন, খাবার পানি সরবরাহের জন্য ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করতে হয়। পানি উত্তোলন ও সরবরাহে ব্যবহৃত পাম্প বিদ্যুৎচালিত। বেশ কয়েক দিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে পানি সরবরাহেও সমস্যা হচ্ছে।
মঠবাড়িয়া পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম আমিনুল ইসলাম সুমন বলেন, প্রতি ঘণ্টায় বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ওঠানামা করছে। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ যেমন ভোগান্তিতে পড়ছেন, তেমনি আমরাও সমস্যার মধ্যে রয়েছি।
আরটিভি/টিআর