মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ , ০৮:১২ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজা ও দাফনকাজে অংশ নিয়েছেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম। পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর পুলিশি প্রহরায় তিনি জানাজায় অংশ নেন। দাফন শেষে তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে পাঁচ ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের মৃত হেলু মিয়ার ছেলে পান শাহ আলম।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় সোমবার (২৯ জুন) রাতে নিজ বাড়িতে মারা যান শাহ আলমের মা হালিমা বেগম (৭৫)। মঙ্গলবার বেলা আড়াইটায় নূরপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে শাহ আলমের ছোট ভাই নূর আলম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন, যাতে তিনি শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে এবং জানাজায় অংশ নিতে পারেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মঙ্গলবার দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেন।
প্যারোলে মুক্তি পেয়ে পুলিশি প্রহরায় নিজ বাড়িতে পৌঁছান শাহ আলম। পরে জানাজাস্থলে গিয়ে মায়ের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানাজায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিজ হাতে মায়ের মরদেহ কবরে নামান। দাফন শেষে পুলিশি প্রহরায় তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়। এ সময় তার এক হাতে হাতকড়া ছিল।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শাহ আলম মায়ের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান। একই সঙ্গে মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ায় প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বক্তব্যে তিনি নিজেকে নির্দোষ বলেও দাবি করেন।
জানা গেছে, বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন শাহ আলম।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার মজিবুর রহমান মজুমদার বলেন, মায়ের জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্যারোলে মুক্তির আদেশ দেন। সেই আদেশ অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময় শেষে পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে