মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ , ০৮:৩৫ পিএম
নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলায় চুরির অভিযোগে এক কিশোরকে জনসম্মুখে মাথা ন্যাড়া করে অপদস্থ করার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মূল অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশ সদস্য রতন রবি দাশকে আটক করেছে। একই সঙ্গে তাকে গ্রাম পুলিশ পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
ঘটনাটি সোমবার (২৯ জুন) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে উপজেলার রংছাতি ইউনিয়নের পাঁচগাঁও বাজারের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে ঘটে। পরে বিকেলে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
ভুক্তভোগী মো. রাব্বিল (১৪) উপজেলার বানাইকোনা গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে। আটক রতন রবি দাশ পাঁচগাঁও গ্রামের বিন্দু রবি দাশের ছেলে। তিনি গ্রাম পুলিশ সদস্য হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে একটি সেলুন পরিচালনা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচগাঁও বাজারের একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে সাত হাজার টাকা চুরির অভিযোগে রাব্বিলকে আটক করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, তল্লাশির সময় তার কাছ থেকে ওই টাকা উদ্ধার করা হয় এবং সে অভিযোগ স্বীকারও করে। তবে তাকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে কয়েকজনের উপস্থিতিতে গ্রাম পুলিশ সদস্য রতন রবি দাশ আইন নিজের হাতে তুলে নেন। শাস্তির নামে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণেই জনসম্মুখে কিশোরটির মাথা সম্পূর্ণ ন্যাড়া করে দেওয়া হয়।
ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, চুল কাটার সময় কিশোরটি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বারবার ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে আর এমন কাজ করবে না বলে আকুতি জানাচ্ছে। কিন্তু উপস্থিত কেউ তার অনুরোধে সাড়া না দিয়ে পুরো ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
আটকের পর রতন রবি দাশ বলেন, বাজারে লোকজন কিশোরটিকে আটক করে আমাকে খবর দেয়। সেখানে গিয়ে উপস্থিত লোকজন ১০০ টাকার বিনিময়ে তার মাথা ন্যাড়া করে দিতে বলে। আমি তা করেছি। এখন আমি আমার কাজের জন্য অনুতপ্ত।
রংছাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান পাঠান বাবুল জানান, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্তকে ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্য হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানা পুলিশকে জানানো হলে তাকে আটক করা হয় এবং সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে থাকা পরিদর্শক (তদন্ত) সজল সরকার বলেন, চুরির অভিযোগে কিশোরকে নির্যাতনের ঘটনায় মূল অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনও এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সচেতন মহল বলছে, অপরাধের অভিযোগ থাকলেও বিচার করার দায়িত্ব আদালতের, জনসম্মুখে কাউকে অপদস্থ করা নয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরটিভি/এমএইচজে