বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬ , ১১:৩৯ এএম
খুলনা শহরের প্রধান প্রবেশদ্বার গল্লামারী পয়েন্টে ময়ূর নদের ওপর নির্মিতব্য দুটি সমান্তরাল স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ সেতুর কাজে গতি ফিরেছে। দুটি সেতুর মধ্যে ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হয়েছে একটি। দৃশ্যমান সেতুটির কাজ চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেতুটির কাজ শেষ হতে আরও এক বছর সময় লাগতে পারে। সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হলে হাজার হাজার যাত্রী দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন।
সূত্র অনুযায়ী, নান্দনিক নকশায় এই দুটি সেতুর নির্মাণ কাজ ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হয়। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন কারণে বিলম্ব হওয়ায় প্রকল্পের সময়সীমা বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ২৮ জুন পর্যন্ত করা হয়। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এখন পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য সময়সীমা আরও বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত করার আবেদন জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রথম সেতুটির নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং আগামী সেপ্টেম্বরে এটি যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে দ্বিতীয় সেতুটির কাজ শেষ হতে আরও এক বছর সময় লাগতে পারে।
সূত্র জানায়, মূলত আর্থিক সংকটের কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় ধরে বিলম্বিত হয়েছে, যা বাস্তবায়নের বিষয়ে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পের কাজ থমকে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত কাজ শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান ও সংবাদ সম্মেলনের মতো কর্মসূচি পালন করেন।
জুনের মাঝামাঝি সময়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কাজ দ্রুত করার নির্দেশ দেওয়ার পর নির্মাণ কাজের গতি বৃদ্ধি পায়।
প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, স্টিলের কাঠামো স্থাপনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মূল আর্চটি ইতোমধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এখন ডেক স্ল্যাব ঢালাই ও হ্যাঙ্গার স্থাপনের প্রস্তুতি চলছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৩৯ মাস ধরে চলা এই কাজের ফলে দুটি সেতুর সামগ্রিক ভৌত অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশে। প্রথম সেতুটির নির্মাণ কাজ প্রায় ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি কাজ আগস্টের মধ্যে শেষ হওয়ার আশা করা হচ্ছে, যাতে সেপ্টেম্বরে এটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যায়।
এদিকে কাজের বিলম্ব নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, নির্মাণ কাজ চলার কারণে সৃষ্ট যানজটে ব্যস্ত খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী হাজার হাজার যানবাহন ও পথচারী প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
খুলনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের (আরএইচডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তানিমুল হক জানান, ৬৭ দশমিক ৬৬ কোটি টাকা ব্যয়ে দু’টি সেতু এবং ৭৫০ মিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণের বিষয়টি এই প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত। প্রথম সেতুটির কাজ শেষ হওয়ার পরপরই দ্বিতীয় সেতুটির নির্মাণ কাজ শুরু হবে।
বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাহী প্রকৌশলী তানিমুল হক বলেন, এ ধরনের ‘স্টিল নেটওয়ার্ক আর্চ ব্রিজ’ নির্মাণের ক্ষেত্রে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের পূর্ব-অভিজ্ঞতার অভাব ছিল। মূলত অভিজ্ঞতার অভাব এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে কাজের গতি কিছুটা ধীর হয়ে গিয়েছিল। তবে কারিগরি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়েই এই কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সেতুর হ্যাঙ্গারগুলো স্থাপনের জন্য শিগগিরই চীনা বিশেষজ্ঞদের একটি দল আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাজের মানের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হলেও এর ব্যয় বাড়বে না; ঠিকাদারকে চুক্তিবদ্ধ অর্থের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
সেতুগুলো খুলনার জন্য একটি আধুনিক ও আকর্ষণীয় ল্যান্ডমার্ক বা দর্শনীয় স্থাপনা হয়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সূত্র: বাসস
আরটিভি/আইএম