images

দেশজুড়ে

বিয়ের দাবিতে তরুণীর অনশন, পালিয়েছেন প্রেমিক

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ১২:০০ পিএম

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে ১২ দিন ধরে অবস্থান ও অনশন করছেন গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার ভূয়ারপাড়া গ্রামের মোসাম্মৎ নুসরাত জাহান নামে এক তরুণী। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিনই ওই বাড়িতে ভিড় করছেন উৎসুক স্থানীয়রা।

তরুণীর অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের ওহাব আলী খনকার বাড়ির মো. আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত দুই বছর ধরে ঢাকায় নিয়মিত দেখা-সাক্ষাতের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়।

নুসরাত জাহানের দাবি, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে আবু সাইদ তাকে দেবিদ্বার উপজেলার চড়বাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন অবস্থানের পর তিনি বিয়ের বিষয়টি তুললে, আবু সাইদ তাকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন।

পরে প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে গেলে আবু সাইদ তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে তাকে টানাহেঁচড়া করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন নুসরাত।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। পরে চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালেই আবু সাইদ সেখান থেকে চলে যান। এরপর থেকেই নুসরাত জাহান প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন।

নুসরাত জাহান বলেন, সে আমার জীবনের অনেক ক্ষতি করেছে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন সে আমাকে বিয়ে করবে, না হলে আমি এই বাড়ি থেকেই ফিরব না।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এ সময় অভিযুক্ত যুবক আত্মগোপনে চলে যান। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও যুবকের পরিবার সহযোগিতা করেনি। পরে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি করেন তারা।

শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু ছেলেটি বৈঠক থেকে চলে যায় এবং তার পরিবারও বিয়েতে রাজি হয়নি। পরে ছেলেসহ পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। তবে অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন
9

তোশকে মোড়ানো ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার 

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নুসরাত জাহান ও আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের মধ্যে কোনো আপস-মীমাংসা বা বিয়ের বিষয়ে সমঝোতার তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযুক্ত আবু সাইদ ও তার পরিবারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

আরটিভি/এসএস