বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ১২:৩০ পিএম
পূর্ব সুন্দরবনে শিকারিদের ফাঁদে আটকে পড়া গুরুতর আহত রয়েল বেঙ্গল টাইগার (বাঘিনী) যথাযথ চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যায় এখন পরিপূর্ণ সুস্থ।
প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘটি বর্তমানে খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পর্যবেক্ষণে রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের। চলতি মাসেই (জুলাই) বাঘটিকে তার পূর্বের আবাসস্থল সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশে ছাড়ার কথা জানিয়েছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ ও বিশেষজ্ঞ সূত্র জানায়, বাঘটি ছাড়ার আগে তার গলায় স্যাটেলাইটযুক্ত রেডিও কলার স্থাপন করা হবে। যাতে পরবর্তীতে তার অবস্থান, শিকার ধরার সক্ষমতা, আচরণ ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যায়। স্যাটেলাইট কলারটি আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (আইইউসিএন) থেকে চলতি মাসেই পাওয়ার কথা রয়েছে। সেটি পেলেই বাঘটি সুন্দরবনে ছাড়ার দিনক্ষণ চূড়ান্ত করা হবে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, ৩ জানুয়ারি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শরকির খাল এলাকার বনে শিকারিদের পেতে রাখা ছিটকা ফাঁদে আটকা পড়েছিল প্রাণীটি। পরে ট্রাংকুলাইজার, বন্দুকের মাধ্যমে অচেতন করে বাঘটি উদ্ধারের পর চিকিৎসার জন্য খুলনার বয়রায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসন কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ফাঁদের রশিতে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে ক্ষত সৃষ্টি হয়ে ধরেছিল পচনও।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, শিকারিদের রশির ফাঁদে আটকে পড়ার পর টানাটানিতে বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে তিন ইঞ্চি পরিমাণ চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সেখানে পচন ধরেছিল। পরে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নিয়মিত চিকিৎসায় বাঘটি এখন পুরোপুরি সুস্থ এবং ফিরেছে তার স্বাভাবিক চেহারায়। ওজন বাড়ার পাশাপাশি বেড়েছে ক্ষিপ্রতাও। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় দেখা যায়, এখন শিকার ধরে খেতেও সক্ষম হয়েছে স্ত্রী বাঘটি (বাঘিনী)। বাঘটির বয়স ৯-১০ বছর হবে।
ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী আরো বলেন, ২১ মে বাঘ গবেষক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বন বিভাগ আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে চলতি মাসের (জুলাই) যে কোনো সময় বাঘটিকে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই এলাকার বনেই অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আইইউসিএন থেকে স্যাটেলাইট রেডিও কলারটি হাতে পেলেই চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হবে।
জানতে চাইলে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ ও জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ বলেন, বাঘটি যেহেতু পরিপূর্ণ সুস্থ, তাই তাকে আর আটকে না রেখে তার আপন ঠিকানা সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়া উচিত। তবে সুন্দরবনের বাঘ যদি কোনো কারণে একবার লোকালয়ে চলে যায়, পুনরায় বনে ছাড়ার পর আবার লোকালয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। সেক্ষেত্রে ছাড়ার আগে তার গলায় স্যাটেলাইট রেডিও কলার পরানোর মতামত দিয়েছি। যাতে সার্বক্ষণিক বাঘটির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা যায়।
বন্যপ্রাণী শিকার রোধে করণীয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ড. এম এ আজিজ বলেন, প্রথমত শিকারিদের চিহ্নিত করা এবং তারা যাতে কোনোভাবেই বনে ঢুকতে না পারে এ ব্যপারে নজরদারি বাড়াতে হবে বন বিভাগের। পাশাপাশি বনের অভ্যন্তরে পায়ে হেঁটে টহল জোরদার করতে হবে বনরক্ষীদের। এছাড়া বনের বিভিন্ন স্থানে শিকারিদের পেতে রাখা পরিত্যক্ত ফাঁদ অপসারণ করে বন্যপ্রাণিদের অবাধ চলাচলে নিতে হবে কার্যকর উদ্যোগ।
আরটিভি/এসএস