বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৩:৩৭ পিএম
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কতিপয় শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের আনিত যৌন হয়রানির (অনাকাঙ্খিতস্পর্স) অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাত সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করার পর তদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন- তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শমিষ্ঠা সেন গুপ্তা। সদস্যরা হলেন- মেডিক্যাল কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা জুঁই, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খাদিজা নাসরিন, মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল ইসলাম, বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অভিভাবক সদস্য জিল্লুর রহমান ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের বিশ্বাস।
আর এ কমিটিকে তদন্ত শেষ করে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তদন্ত কমিটি ৪০ জন শিক্ষার্থী, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে তদন্ত কমিটির প্রধান শমিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, তদন্তকালে মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য দেওয়া অধিকাংশ শিক্ষার্থীই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর। তবে তদন্তের স্বার্থে তদন্ত প্রতিবেদন না দেওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে এ কর্মকর্তা কোনো বক্তব্য দিতে রাজী হননি।
উল্লেখ্য, এর আগে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, তাড়াশ থানা এবং জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে বিশেষ নারী তদন্ত টিমের সমন্বয়ে ২২ জুন তদন্ত ও গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে (২৩ জুন) সকাল ১১টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তাড়াশ উপজেলা পরিষদের সামনে এক মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলে ফের তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাত সদস্য বিশিষ্ট কমিটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। যে কমিটি ৩০ জুন তদন্ত কাজ শেষ করেন।
জানা গেছে, ১৯৮৬ সালে তাড়াশ উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের আদিবাসী অধ্যুষিত বিষমডাঙ্গা গ্রামে মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এ বিদ্যালয়টি ২০১২ সালে স্কুল থেকে কলেজ পর্যন্ত সম্প্রসারিত হয়। বর্তমানে এখানে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ নারী শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। একই সঙ্গে বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজটি সুষ্ঠু ভাবে শিক্ষার মান বজায় রেখে পরিচালিত হওয়ায় উপজেলার মধ্যে অন্যতম একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্ব- নামে পরিচিত ছিল।
কিন্তু সম্প্রতি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের অভিযোগ বিষম ডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের চারজন শিক্ষক ধারাবাহিকভাবে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করে আসছেন। আর যৌন নিপীড়নের শিকার অধিকাংশ নারী শিক্ষার্থী এলাকার দরিদ্র ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী পরিবার থেকে আসা। এ কারণে শিক্ষকদের নিপড়নের বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ খুললে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয় এমনও অভিযোগ তাদের। সম্প্রতি কয়েকজন নারী শিক্ষার্থী কয়েকজন শিক্ষকদের ধারাবাহিক যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একই সঙ্গে অভিযোগ, মানববন্ধনসহ নানা কর্মসূচি শুরু হয়।
তবে বিষম ডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. আবদুল আলীম এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা নিছক ষড়যন্ত্র। ভাল একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুর্ণ করতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়া হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিষমডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুসরাত জাহান বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের শিক্ষক কর্তৃক যৌন নিপীড়নের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ জন্য তদন্ত কমিটি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে সে আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এমএইচজে