images

দেশজুড়ে

প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরকারি বই ভাঙাড়িতে বিক্রির অভিযোগ

বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৩০ পিএম

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সরকারি বিধিমালা লঙ্ঘন করে বিদ্যালয়ের নতুন, পুরোনো ও অব্যবহৃত সরকারি পাঠ্যপুস্তক ভাঙাড়ির দোকানে বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. আকতার হোসেন। তিনি উপজেলার সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে পৌর শহরের বহেরাতলা এলাকার একটি ভাঙাড়ির দোকানের সামনে থেকে ট্রাকে বই ভর্তি করার সময় স্থানীয় জনতা বিপুল পরিমাণ বইসহ একটি ট্রাক আটক করে। এ ঘটনায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক মো. কবির হোসেন বাদী হয়ে মঠবাড়িয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে পৌর শহরের বহেরাতলা এলাকার জনৈক হান্নানের ভাঙাড়ির দোকানের সামনে বগুড়াগামী একটি ট্রাকে আনুমানিক ৮ হাজার কেজি নতুন-পুরোনো বই, গাইড বই ও কার্টন বিক্রির উদ্দেশ্যে তোলা হচ্ছিল। এ সময় স্থানীয় লোকজনের সন্দেহ হলে তারা বই ও কার্টনসহ ট্রাকটি আটক করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, সেখানে ২০২৪ ও ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের মাধ্যমিক স্তরের বিপুল পরিমাণ নতুন ও অব্যবহৃত সরকারি পাঠ্যপুস্তক রয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত জাকারিয়া নামের এক হকারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি স্বীকার করেন, সরকারি হাতেম আলী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেনের কাছ থেকে তিনি বইগুলো কিনেছেন। এ মর্মে হকার জাকারিয়া তাৎক্ষণিকভাবে একটি লিখিত বক্তব্যও দেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ২৩ জুন প্রধান শিক্ষক মো. আকতার হোসেন ও তার সহযোগীরা সরকারি বিধিমালা উপেক্ষা করে এবং কোনো ধরনের নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না করে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার বিজ্ঞানাগার থেকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি, বিজ্ঞান, গণিত ও ভোকেশনালসহ বিভিন্ন বিষয়ের মোট ২ হাজার ৩৭৯টি সরকারি বই গোপনে হকার জাকারিয়ার কাছে মাত্র ৮ হাজার ৮০৫ টাকায় বিক্রি করেন। বইগুলোর মোট ওজন ছিল ৫৮৭ কেজি।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, সরকারি কর্মচারী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে বই বিক্রির অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এছাড়া বই বিক্রির আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কিংবা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হয়নি।

পরবর্তীতে বুধবার (১ জুলাই) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশক্রমে প্রাথমিক স্তরের বইগুলো উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার জিম্মায় দেওয়া হয় এবং গাইড বইগুলো সংশ্লিষ্ট প্রাপকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। অন্যদিকে, মাধ্যমিক স্তরের ২ হাজার ৩৭৯টি সরকারি বই মঠবাড়িয়া থানা পুলিশ জব্দ করেছে। বইগুলো যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই ও বিতরণ কার্যক্রম শেষ করে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পরামর্শক্রমে থানায় এজাহার দায়ের করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে বাদী জানিয়েছেন।

মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

আরটিভি/টিআর