শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ১১:১৫ এএম
স্ত্রীর স্বীকৃতি পেতে সৌদি প্রবাসীর বাড়িতে শ্বশুরের প্রতিশ্রুতিতে অনশন ভাঙেন তরুণী। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগাযোগ না করায় অভিযোগের ভিত্তিতে অবশেষে গ্রেপ্তার হলেন যুবক। ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পাতবিলা গ্রামে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে।
প্রতারণার শিকার ফারজানা আক্তার (২২) নামে এক তরুণীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শুক্রবার (২ জুলাই) অভিযুক্ত প্রবাসী ঈমন খাঁন (২৫)-কে গ্রেপ্তার করেছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। ঈমন খাঁন স্থানীয় জামায়াত নেতা ইয়াকুব আলীর একমাত্র ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাতবিলা গ্রামের জামায়াত নেতা ইয়াকুব আলীর ছেলে সৌদি প্রবাসী ঈমন খাঁনের সাথে ফারজানা আক্তারের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে তাদের বিয়ে হলেও ঈমন ও তার পরিবার বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করে এবং ফারজানাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। কোনো উপায় না দেখে গত কয়েকদিন আগে স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে সরাসরি শ্বশুর ইয়াকুব আলীর বাড়িতে গিয়ে অনশন শুরু করেন ফারজানা।
এক তরুণী স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে ঈমনের বাড়িতে অনশন করছেন—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার উৎসুক জনতা বাড়িতে ভিড় জমায়। একপর্যায়ে ঘটনার সত্যতা ও মেয়েটির অসহায়ত্ব দেখে ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রামের সাধারণ মানুষ। গ্রামবাসীর তীব্র তোপের মুখে পড়েন জামায়াত নেতা ইয়াকুব আলী। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং গণধোলাই বা সামাজিক শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি একটি সমঝোতার পথ খোঁজেন।
উপস্থিত জনতার সামনে ইয়াকুব আলী ওই তরুণীকে নিজের পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেওয়ার মৌখিক আশ্বাস দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, আগামী তিন দিনের ভেতরে মেয়ের পরিবারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলে ফারজানাকে আমার বেটার (ছেলে) বউ করে ঘরে তুলে নেবো।
শ্বশুরের এমন প্রকাশ্য প্রতিশ্রুতি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় আশ্বস্ত হয়ে অনশন ভঙ্গ করে নিজের বাপের বাড়ি ফিরে যান ফারজানা।
তবে তিন দিন পার হয়ে গেলেও ইয়াকুব আলী কিংবা তার ছেলে ঈমন খাঁন কোনো যোগাযোগ করেননি। উল্টো বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। শ্বশুরবাড়ির পক্ষের এমন প্রতারণা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের পর আর চুপ থাকেননি ফারজানা। তিনি নিজের অধিকার আদায়ে সরাসরি আইনের আশ্রয় নেন এবং কালীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
ফারজানার লিখিত অভিযোগের পর নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও প্রাথমিক তদন্ত শেষে শুক্রবার কালীগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত যুবরাজ ওরফে ঈমন খাঁনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেলাল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী নারীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনের চোখে সবাই সমান, অপরাধের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
এমন কাণ্ড এবং পরবর্তীতে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুরো পাতবিলা গ্রামসহ কালীগঞ্জ উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা প্রবাসীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
আরটিভি/এমএম