শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ০৮:০৬ পিএম
ভোলার চরফ্যাশনে জরিনা বেগম (২০) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। স্বামীর পরিবারের দাবি, তিনি বিষপান করে আত্মহত্যা করেছেন। তবে মৃত্যুর পর স্বামী ও শ্বশুর হাসপাতালেই মরদেহ রেখে পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে উপজেলার দুলারহাট থানার নুরাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে স্বামী শরীফের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত জরিনা বেগম একই এলাকার সিরাজ পাটোয়ারীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাতে জরিনা বেগম বিষপান করেন বলে দাবি করা হয়। পরে তার স্বামী ও শ্বশুর তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তবে মৃত্যুর পর স্বামী ও শ্বশুর হাসপাতাল থেকে মরদেহ রেখে পালিয়ে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালের তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহের সুরতহাল শেষে শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
নিহতের বাবা সিরাজ পাটোয়ারী জানান, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে একই গ্রামের শরীফের সঙ্গে জরিনার বিয়ে হয়। শুরুতে তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। বিষয়টি একবার মুঠোফোনে মেয়েও তাকে জানিয়েছিল। তবে কী কারণে তার মেয়ে বিষপান করেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর পর মেয়ের মরদেহ হাসপাতালে রেখে স্বামী ও শ্বশুর পালিয়ে যাওয়ায় ঘটনাটি আরও রহস্যজনক হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর দাবি, জরিনার স্বামীর আচরণ ভালো ছিল না। প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। তাদের ধারণা, পারিবারিক নির্যাতনের কারণেই জরিনা আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। আবার তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সেই সন্দেহও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ঘটনার পর স্বামীর বাড়ির সদস্যদের কাউকে এলাকায় না পাওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ আরও বেড়েছে।
দুলারহাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) গোফরান সিকদার বলেন, মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক মনে হওয়ায় মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/টিআর