images

দেশজুড়ে

বিসিএসে হ্যাটট্রিক, এবার পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হাসান

রোববার, ০৫ জুলাই ২০২৬ , ০৩:০৬ পিএম

একের পর এক সাফল্যে বিসিএসে বিরল কৃতিত্ব গড়েছেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার তরুণ মেধাবী মো. হাসান মিয়া। প্রথমে শিক্ষা ক্যাডার, এরপর প্রশাসন ক্যাডার এবং সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বিসিএসে ‘হ্যাটট্রিক’ অর্জন করেছেন তিনি।

হাসান মিয়া উপজেলার সাপলেজা ইউনিয়নের বাসিন্দা। তিনি মো. ছগির আকনের জ্যেষ্ঠ সন্তান। ২০১৩ সালে সাপলেজা মডেল হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০১৫ সালে মঠবাড়িয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে অনার্সে প্রথম এবং মাস্টার্সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিজিপিএধারীদের মধ্যেও তিনি অন্যতম ছিলেন।

শুধু বিসিএসেই নয়, কর্মজীবনের শুরুতেই একের পর এক সরকারি চাকরিতে সাফল্য পেয়েছেন হাসান। এ পর্যন্ত মোট নয়টি সরকারি চাকরিতে তিনি সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। এর আগে ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডার এবং ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পান। সর্বশেষ ৪৭তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে তিনি বিরল এক কৃতিত্বের নজির স্থাপন করলেন।

নিজের সাফল্যের গল্প বলতে গিয়ে হাসান জানান, ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল শিক্ষক হওয়ার। সেই লক্ষ্য নিয়েই বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। শুনেছিলেন, বিভাগে সেরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তাই শুরু থেকেই লক্ষ্য স্থির করে পড়াশোনা করেন। প্রথম সেমিস্টারে দ্বিতীয় হওয়ার পর নিজেকে আরও প্রস্তুত করেন এবং শেষ পর্যন্ত অনার্সে প্রথম ও মাস্টার্সে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন।

তবে নবীন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ সীমিত বুঝতে পেরে তিনি বিসিএসের দিকে মনোযোগ দেন। ২০২২ সালের নভেম্বরে মাস্টার্সের লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পূর্ণোদ্যমে বিসিএসের প্রস্তুতি শুরু করেন। ৪৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হওয়ার পর লিখিত পরীক্ষার জন্য নিবিড় প্রস্তুতি নেন।

হাসান বলেন, বরিশালে থাকাকালে একাধিক টিউশন করাতাম। টিউশন করানোর মাধ্যমে বিষয়গুলো বারবার পড়াতে হয়েছে, যা আমার নিজের প্রস্তুতিকেও অনেক শক্তিশালী করেছে।

২০২৫ সালের এপ্রিলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে যোগ দিলেও ৪৭তম ও ৪৯তম বিসিএসের প্রস্তুতির স্বার্থে মাত্র সাড়ে চার মাসের মাথায় চাকরি ছেড়ে দেন। পরে বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি)-এ গবেষণা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন। সেখানে যোগদানের মাত্র ছয় দিন পর ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি পান। এ জন্য তিনি প্রতিষ্ঠানটির রেক্টরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

হাসান আরও জানান, যেদিন তিনি সাভার থেকে বরিশালে ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা দিতে যাচ্ছিলেন, সেদিনই ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয় এবং তিনি প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার খবর পান। অনেক ভেবে তিনি বাকি পরীক্ষাগুলোতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তই আজ তাকে পররাষ্ট্র ক্যাডারে নিয়ে এসেছে।

নিজের সাফল্যের পেছনে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন হাসান—মহান আল্লাহর প্রতি অগাধ বিশ্বাস, একাডেমিক পড়াশোনায় মনোযোগ এবং নিয়মিত টিউশন করানোর মাধ্যমে বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা অর্জন। তিনি জানান, বিসিএস প্রস্তুতির সময় কঠোর কোনো রুটিন অনুসরণ করেননি। টিউশন ও চাকরির ফাঁকে যতটুকু সময় পেয়েছেন, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করেছেন। ক্লান্ত লাগলে হাঁটাহাঁটি করেছেন, চা পান করেছেন এবং নামাজ আদায় করে নিজেকে সতেজ রেখেছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে হাসান মিয়া বলেন, দেশের স্বার্থে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে চাই। দেশের প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পেলে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করাই হবে আমার লক্ষ্য।

আরটিভি/টিআর