images

দেশজুড়ে

জুলাই যোদ্ধাদের মারতে পুরস্কার ঘোষণা, অতঃপর...

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬ , ০৬:১৪ পিএম

নড়াইলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী এবং আন্দোলনে অংশ নিয়ে আহত জুলাই যোদ্ধাদের হত্যা ও মারধর করার জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন অঙ্কের অর্থ পুরস্কার ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় সোমবার (৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নড়াইল জেলা শাখার সদস্য সচিব মো. আমিরুল ইসলাম (রানা) বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে নড়াইল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জুলাই মাস আসায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের টার্গেট করে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পলাতক কয়েকজন নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকে বিভিন্ন উসকানিমূলক লেখালেখি এবং ভুয়া ভিডিও পোস্ট করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় আন্দোলনকারীদের মারধর বা হত্যা করতে পারলে ৫০ হাজার, ১ লাখ, ২ লাখ এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই উসকানিমূলক ঘোষণা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের জীবনের জন্য চরম নিরাপত্তা হুমকি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে নিষিদ্ধ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ যে ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন- বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদ নড়াইল জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মো. মিজানুর রহমান নয়ন ,লোহাগড়া উপজেলার কুন্দসী গ্রামের বাসিন্দা ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা মহানগরী উত্তর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সজিবুল ইসলাম হৃদয় , লোহাগড়া উপজেলার কুন্দসী গ্রামের বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন রায়হান, চাচই গ্রামের ইমন শিকদার, লোহাগড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চাচই গ্রামের মো. মিলন জমাদ্দার, মল্লিকপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. ইস্রাফিল (২৫) কাশিপুর ইউনিয়নের কামেশ্বরপুর (ভাটগাতী-রামেশ্বরপুর) গ্রামের বাসিন্দা মো. সজীব চৌধুরী, কালনা গ্রামের বাসিন্দা
এস কে আসলাম, নড়াইল পৌরসভার নড়াইল (দক্ষিণ নড়াইল) গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস, সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের সিবানন্দপুর (বাজে সিবানন্দপুর) গ্রামের মো. জুবায়ের শেখ এবং বঙ্গবন্ধু জাতীয় পরিষদের সহসভাপতি (চন্ডিবরপুর) সৌরভ কর্মকার।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

এনসিপির সমাবেশে হামলার ঘটনায় নিষিদ্ধ দলের ২ জন গ্রেপ্তার

এ প্রসঙ্গে নড়াইল জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব ও বাদী আমিরুল ইসলাম বলেন, জুলাই মাস আসায় আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দিশেহারা বা পাগল হয়ে গেছে। তারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন অজ্ঞাত স্থান বা আত্মগোপনে থেকে ফেসবুকের মাধ্যমে আমাদের ওপর হামলার উসকানি দিচ্ছে এবং মোটা অঙ্কের টাকার
পুরস্কার ঘোষণা করছে। কিছুদিন আগে আমার ওপর হামলা করা হয়েছে বলে তারা মিথ্যা গুজবও ছড়িয়েছে। আমরা আমাদের জীবনের নিরাপত্তা এবং এই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে আইনের দ্বারস্থ হয়েছি। দ্রুত প্রতিকার চাই, তবে প্রতিকার না পেলে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপের জন্য প্রস্তুত আছি।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে আসামির তালিকায় থাকা মো. আব্দুল্লাহ আল জাবের লোটাস তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে বলেন, তালিকায় থাকা বাকি ১০ জনের অধিকাংশকেই আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। এমনকি যিনি অভিযোগ করেছেন তাকেও আমি চিনি না এবং তার সঙ্গে কখনও কোনো কথা বা দেখা হয়েছে কি না তাও আমার জানা নেই। আমার বিরুদ্ধে কীসের ভিত্তিতে এই অভিযোগ আনা হলো তা আমার বোধগম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য-প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশ করা হোক। আমি আইনকে সর্বোচ্চ সম্মান করি এবং প্রকৃত প্রমাণ উপস্থাপন করা হলে আমি নিজেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে উপস্থিত হয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করব। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হোক। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে কাউকে সামাজিক বা পলিটিকালভাবে হেয় করা গণতান্ত্রিক চর্চা হতে পারে না।

এ বিষয়ে নড়াইল জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল মামুন শিকদার বলেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের উসকানিমূলক ও হুমকিমূলক পোস্টদাতাদের এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের সাইবার টিমসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে যথাযথ ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে