images

দেশজুড়ে

ইটের সড়কে বদলে গেছে গ্রামের বাস্তবতা

বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬ , ০৭:০২ পিএম

ভোলার চরফ্যাশনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা রাস্তার দুর্ভোগে থাকা শত শত গ্রামের মানুষ এখন ইটের সড়ক পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করছেন। এতে বদলে যাচ্ছে গ্রামীণ জনপদের চিত্র।

একসময় এসব এলাকার অধিকাংশ রাস্তা ছিল কাঁচা। বর্ষা মৌসুম এলেই হাঁটুসমান কাদা ও জমে থাকা পানির কারণে মানুষের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ত। প্রতিবছর সরকারি অর্থে মাটি ফেলে রাস্তা সংস্কার করা হলেও কয়েক মাসের মধ্যেই বৃষ্টির পানিতে সেই মাটি ধুয়ে যেত। ফলে পরের বছর আবারও একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হতো স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এবার সেই চিত্রে এসেছে বড় পরিবর্তন। কাঁচা রাস্তার পরিবর্তে ইটের সলিং নির্মাণ হওয়ায় গ্রামের মানুষ এখন বছরের সব সময় সহজেই চলাচল করতে পারছেন। বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যাতায়াত আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আগে সামান্য বৃষ্টি হলেই বাড়ি থেকে বের হওয়া ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। বাজার, স্কুল, মসজিদ কিংবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এখন সেই ভোগান্তি অনেকটাই দূর হয়েছে।

অতীতে কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়াই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কাঁচা রাস্তার কারণে কোনো যানবাহন বাড়ির সামনে পর্যন্ত যেতে পারত না। বর্তমানে ইটের সড়ক নির্মাণ হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন সরাসরি বাড়ির সামনে পৌঁছাতে পারছে। এতে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাও অনেক সহজ হয়েছে।

শুধু রোগী পরিবহন নয়, শিক্ষার্থীদের জন্যও এই উন্নয়ন বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। আগে বর্ষাকালে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হতো। অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পিছলে পড়ে যেত। আবার অনেকে দুর্ভোগের কারণে নিয়মিত স্কুলেও যেতে পারত না। এখন ইটের সড়ক হওয়ায় তারা নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারছে।

মাদ্রাজ ইউনিয়নের বাসিন্দা কালাম বলেন, আগে কৃষিপণ্য বাজারে নিতে অনেক কষ্ট হতো। দৈনন্দিন যাতায়াত এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনাও ছিল দুরূহ। এখন ইটের রাস্তা হওয়ায় সবকিছু সহজ হয়েছে। এজন্য আমরা স্থানীয় এমপি ও উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

জিন্নাগড় ইউনিয়নের বাসিন্দা কুলছুম বলেন, আগে কাঁচা রাস্তার কারণে চলাচলে খুব কষ্ট হতো। এখন ইট দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করায় অনেক সুবিধা হয়েছে। ভবিষ্যতে এসব ইটের সড়ক স্থায়ীভাবে পাকাকরণের দাবি জানাই।

উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব হাজী জাহিদুল ইসলাম রাসেল বলেন, তিনটি প্রকল্পের আওতায় সাধারণত মাটির রাস্তা সংস্কারের কাজ করা হয়। তবে স্থানীয় সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়নের সুপারিশে চরফ্যাশনের ২১টি ইউনিয়নের তিন শতাধিক গ্রামীণ সড়কে ইটের সলিং নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকটাই কমেছে।

উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মঞ্জুর হোসেন বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের বরাদ্দ অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই নামমাত্র কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু নুরুল ইসলাম নয়নের উদ্যোগ ও পরামর্শে এবার সেই বরাদ্দ দিয়ে কাঁচা রাস্তার পরিবর্তে ইটের সলিং নির্মাণ করা হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জি. এম. ওয়ালিউল ইসলাম বলেন, গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় তিন শতাধিক সড়কে ইটের সলিং নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির মাধ্যমে চরফ্যাশনে তিন শতাধিক সড়কের উন্নয়ন করা হয়েছে। কাঁচা রাস্তার পরিবর্তে ইটের সলিং নির্মাণ করায় স্থানীয় জনগণ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।

আরটিভি/টিআর