images

দেশজুড়ে

কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন মোড়

শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬ , ১২:১৬ পিএম

খুলনা সরকারি ইকবালনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আরফান হোসেন নির্জনা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিলেন তার মা সীমা আকতার। 

শুক্রবার (১০ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইব্রাহীম খলিল মুহিম তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এর আগে, বুধবার (৮ জুলাই) রাতে খুলনার শহরতলির প্রান্তিকা আবাসিক এলাকা থেকে নির্জনা নামের এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন কিশোরীর মা খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের মর্গে মরদেহ শনাক্ত করেন এবং মেয়েটির স্বামী তাকে হত্যা করে থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দেন। অথচ ২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই ঘটনার মোড় ঘুরে গেল সম্পূর্ণ ১৮০ ডিগ্রি অ্যাংগেলে।

থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে সকালে পুলিশ বাদী হয়ে সদর থানায় হত্যা মামলা করে।

হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে সীমা আকতার জানান, ঘটনার দিন বিকেলে মেয়ের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তিনি মেয়েকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘরের ভেতর শোরগোল শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ এসে তাদের উভয়কে চুপ করতে বলেন।

সীমা আকতারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ে চুপ না থাকায় একটি কাঠের চলা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সীমা আকতার আরও জানান, এরপর বাবা ঘরের ভেতরে থাকা ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে মুড়িয়ে মরদেহটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে মোটরসাইকেলে বেঁধে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকায় ফেলে রেখে যান।

সীমা আকতার জানান, ২১ এপ্রিল পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা উপজেলার আজগড়া এলাকার একটি ছেলেকে বিয়ে করায় নির্জনার ওপর তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। বিয়ের ১৭ দিন পর তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বুধবার সকালে শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার জন্য নির্জনা বাড়ি থেকে বের হয়। পরে তাকে বুঝিয়ে আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়। বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

থানার সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার পর থেকে নির্জনার বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ পলাতক রয়েছেন। তার অবস্থান জানতে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন
1

ভারতে মানসিক ভারসাম্যহীন মায়ের দুই মেয়েকে ধর্ষণ, অতঃপর...

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত মেয়েটির মা সকালে স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে স্বীকারোক্তি দিতে চাইলে দুপুরের পর তাকে আদালতে নেওয়া হয়। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।

আরটিভি/এসএস