রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ১১:১৯ পিএম
বান্দরবানের থানচির দুর্গম থুইসাপাড়া এলাকায় ৪৮ ঘণ্টা অভিযানে চালিয়ে বৈরী আবহাওয়ার কারণে আটকা পড়া ৪ শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বিজিবি সুত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ৪ জুলাই বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পর্যটনকেন্দ্র অমিয়াখুম ভ্রমণের উদ্দেশ্যে ৪ জন শিক্ষার্থী থুইসাপাড়া এলাকায় যান। পরবর্তীতে ৭ জুলাই থেকে টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল এবং বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীপথ অচল হয়ে পড়লে তারা সেখানে আটকা পড়েন।
বিজিবি জানায়, সংবাদ পাওয়ার পরপরই বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে বিজিবির বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) এর অধীনস্থ জিন্নাপাড়া ক্যাম্প থেকে বিজিবির একটি আভিযানিকদল থুইসাপাড়ায় পৌঁছে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। বিজিবি সদস্যরা তাদের সার্বিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন এবং স্থানীয় কারবারির সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ অবস্থান, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করেন। একইসঙ্গে জিন্নাপাড়া বিজিবি ক্যাম্পের তত্ত্বাবধানে তাদের সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে নদীপথে থানচিতে ফিরে আসা তখন সম্পূর্ণ অসম্ভব হয়ে পড়ে।

এরপর শনিবার (১১ জুলাই) উদ্ধার অভিযান শুরু করে বিজিবি। জিন্নাপাড়া ক্যাম্পের সদস্যরা বিকল্প পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে থুইসাপাড়া, জিন্নাপাড়া, হালিরামপাড়া ও নিকোলাসপাড়া অতিক্রম করে অংসাউপাড়ায় পৌঁছান। পথে একাধিক পাহাড়ধস, ফুলে ওঠা ঝিরি, প্রবল স্রোত ও টানা বৃষ্টির কারণে সেদিন সীমান্ত সড়ক পর্যন্ত পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। অংসাউপাড়ায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদে রাতযাপনের ব্যবস্থা করা হয়।
রোববার (১২ জুলাই) অংসাউপাড়া বিজিবি ক্যাম্প থেকে আরেকটি দল চার শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রায় চার ঘণ্টা পায়ে হেঁটে দুর্গম পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে সীমান্ত সড়কসংলগ্ন নেপিউপাড়া বিওপিতে পৌঁছে। পরে বিজিবির গাড়িতে করে তাদের নিরাপদে থানচিতে ফিরিয়ে আনা হয়।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা হলেন- ঢাকার সূত্রাপুর থানার বাসিন্দা মো. মারুফ উদ্দিন, আবু হুরায়রা জাদিম ও তামিম রায়হান সৌরভ এবং শ্যামপুর থানার বাসিন্দা মাহাদি আল মাহবুব। তামিম রায়হান সৌরভ নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী। অন্য তিনজন এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
উদ্ধার হওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, থুইসাপাড়ায় আটকা পড়ার পর থেকেই বিজিবি তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়েছে। পরে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি পথ অতিক্রম করে নিরাপদে উদ্ধার করে থানচিতে ফিরিয়ে আনে।

বিজিবির বান্দরবান সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও বিজিবির দায়িত্ব। যেকোনো দুর্যোগ বা জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সহায়তা দিতে বিজিবি সবসময় প্রস্তুত রয়েছে।
আরটিভি/টিআর