সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ১০:৩২ এএম
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে আবারও একটি মৃত ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন ভেসে এসেছে। রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে জোয়ারের পানিতে জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন সৈকত এলাকায় প্রায় ৮ ফুট দীর্ঘ ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে চার দিন আগে প্রাণীটির মৃত্যু হয়েছে।
খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা), বন বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) আহ্বায়ক কে. এম. বাচ্চু বলেন, আগের তুলনায় ডলফিনের মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও এখনও নিয়মিত এমন ঘটনা ঘটছে। তিনি ডলফিন মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে সরকার ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উপরা বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ডলফিন সংরক্ষণ মানেই উপকূলীয় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, উদ্ধার হওয়া প্রাণীটি ইরাবতী প্রজাতির ডলফিন। ডলফিনটির শরীরে রক্তাক্ত দাগ থাকায় প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নৌযানের আঘাত, মাছ ধরার জালে আটকা পড়া বা অন্যান্য মৎস্য আহরণ সরঞ্জামের সঙ্গে সংঘর্ষের কারণেই প্রাণীটির মৃত্যু হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, শিল্পবর্জ্য, প্লাস্টিক, তেলসহ নদী ও মোহনার দূষণও এ প্রজাতির জন্য বড় হুমকি। ডলফিন অভয়ারণ্য এলাকায় জালের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে উপকূলজুড়ে ডলফিন সংরক্ষণে কাজ করা হলেও এ ধরনের মৃত্যুর ঘটনা থামছে না। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এসব মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা কে. এম. মনিরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পরে মৃত ডলফিনটি যথাযথভাবে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয়।
উল্লেখ্য, কুয়াকাটা উপকূলে এর আগেও একাধিকবার মৃত ডলফিন ভেসে আসার ঘটনা ঘটেছে। পরিবেশবিদদের মতে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি উপকূলীয় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য উদ্বেগজনক সংকেত এবং বিষয়টি নিয়ে দ্রুত কার্যকর গবেষণা ও সংরক্ষণমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
আরটিভি/এসকে