সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ , ১২:৫৭ পিএম
ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ায় সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি দুইটি পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং একটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৭সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও ছাতকের সুরমা সেতু এলাকায় বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ছাতক উপজেলায় ১২৫ মিলিমিটার ও তাহিরপুরে ১৫৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
সকাল ১০ টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্ট বিপৎসীমার ২৭সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ৭.৫৩ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সুরমা নদীর পানি ছাতক উপজেলার সুরমা সেতু এলাকায় বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ৮.৭০ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের সীমানায় কুশিয়ারা নদীর পানি দিরাই উপজেলার মার্কুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে ৭.১৮ মিটারে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী দুই দিন সুনামগঞ্জ ও উজানের ভারতের মেঘালয় প্রদেশে মাঝারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ভারি বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে সুনামগঞ্জের কিছু কিছু স্থানে বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে সাময়িকভাবে প্লাবিত হয়ে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
ছাতক পৌরশহরের গণক্ষাই এলাকা বাসিন্দা আবু বকর সিদ্দিক চৌধুরী বলেন, কয়েক দিন টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সুরমা নদীর পানি বাড়ছে। সকালে নদীর পানি প্রায় রাস্তার সমান হয়ে গেছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে নদী তীরের রাস্তা-ঘাটে পানি উঠে যেতে পারে। বৃষ্টিতে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দিয়েছে।
সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর এলাকার বাসিন্দা নুর মিয়া বলেন, কয়েক দিন বৃষ্টি আর থামছেই না। সুরমা নদীর পানি তীরের কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে। এভাবে যদি টানা বৃষ্টি হয় তাহলে পানি নদীর তীরে উঠে যাবে মনে হচ্ছে। নদীর পানি বাড়লে ৪ বছর আগের ভয়াবহ বন্যার কথা মনে পড়ে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও দুই দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভবনা রয়েছে। ভারি বৃষ্টি হওয়ায় সুরমা নদীর পানি দুইটি পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ছাতকে পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। তবে কুশিয়ারা নদীর পানি কিছুটা হ্রাসে পেয়েছে। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি নিম্নাঞ্চলে সল্প মেয়াদী বন্যার আশংকা রয়েছে।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১,০৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। জেলা-উপজেলায় কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এমএম