মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০১:১১ পিএম
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ করায় বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে পানির নিচে ডুবে আছে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি। তলিয়ে গেছে স্কুল, চলাচলের সড়ক, বসতবাড়ি ও বাগান। বন্ধ হয়ে গেছে একটি গ্রামের শিশুদের স্কুলে যাতায়াত। চরম দুর্ভোগে পড়েছে চার গ্রামের মানুষ। প্রশাসনকে জানিয়েও মিলছে না সমাধান।
জানা গেছে, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের শতিপুরী মৌজায় স্থানীয় সরকার বিভাগের ক্ষুদ্র পানি প্রকৌশল প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩০ বছর আগে একটি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। বাঁধের ভেতরে রয়েছে প্রায় এক হাজার একর আবাদি জমি, চারটি গ্রাম, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি সড়ক। ওই সড়ক দিয়ে দুটি গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়াত করে।
পানি নিষ্কাশনের জন্য বাঁধটির পশ্চিম অংশে একটি কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন কালভার্ট দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বর্তমানে সেটি বন্ধ হয়ে গেছে। ছয় মাস আগে কালভার্টের মুখে মাটি ভরাট করে দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন জমির মালিক দুই ভাই সোনাউল্লাহ ও আমান উল্লাহ। এরপর থেকেই বৃষ্টির পানিতে ওই এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
এতে শতিপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠসহ বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সংযোগ সড়ক পানিতে ডুবে গেছে। ছড়ারপাড় গ্রামের শিশু শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে।
এ ছাড়া পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছে ছড়ারপাড়, উত্তর শতিপুরী, দক্ষিণ শতিপুরী ও ব্যাপারীটারী গ্রামের মানুষ। অনেকের বাড়িতে পানি উঠেছে। আবার অনেকে পানি মাড়িয়ে বাড়িতে যাতায়াত করছেন। বসতবাড়ির বাগানে পানি জমে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নষ্ট হচ্ছে। জলাবদ্ধতায় অনেক বাড়ির স্যানিটেশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চরম দুর্ভোগে রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রায় এক হাজার একর জমির আমন আবাদ।
শতিপুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফ উদ্দিন জানান, প্রায় পাঁচ মাস ধরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়ক ডুবে গেছে। একটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে পারছে না। অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের মাঠে পানি ওঠায় শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টির দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাইদ জানান, কালভার্টের মুখে বাড়ি নির্মাণ করায় চারটি গ্রামের মানুষ বিপাকে পড়েছে। এছাড়া প্রায় তিন হাজার বিঘা জমি তলিয়ে আছে। এসব জমিতে আর আবাদ করা সম্ভব হবে না। তিনি আরও জানান, পানিতে রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
কৃষক ওসমান গনি জানান, তার বাড়ির বাগানে পানি ওঠায় সুপারি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ নষ্ট হচ্ছে। আমন ধানের বীজতলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জমিতে পানি থাকায় আমন চাষ নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
মমেনা বেগম বলেন, বাড়ির উঠান পর্যন্ত পানি উঠেছে। বাড়ি থেকে বের হতে পারি না, ভেলায় চলাচল করতে হয়। টয়লেট পানিতে ডুবে গেছে। প্রতিদিন পানি মাড়িয়ে চলাচল করায় পরিবারের সবাই অসুস্থ হয়ে পড়ছে।
পানি নিষ্কাশনের কালভার্টের মুখে বাড়ি নির্মাণ করা আমান উল্লাহ জানান, আমাদের আর কোনো জমি না থাকায় বাধ্য হয়ে এখানে দুই ভাই বাড়ি করেছি।
জলাবদ্ধতার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে কয়েক দফা পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ জানান, জলাবদ্ধতার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। তিনি নিজে ওই স্থান পরিদর্শন করেছেন। কালভার্টের মুখ খুলে দিতে বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে কোনো সমাধান হয়নি। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যানকে বিষয়টি সমাধানের জন্য দায়িত্ব দিয়ে এসেছেন।
আরটিভি/টিআর