images

দেশজুড়ে

সুনামগঞ্জে কমছে নদীর পানি

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ , ০২:০০ পিএম

বৃষ্টি না হওয়ায় সুনামগঞ্জের সুরমা, কুশিয়ারা, রক্তি, জাদুকাটা, বৌলাইসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে ছাতকের সুরমা সেতু এলাকায় পানি ১১ সেন্টিমিটার কমলেও এখনো বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সুনামগঞ্জে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাতক উপজেলায় ৩২ মিলিমিটার এবং তাহিরপুরের লাউড়েরগড় এলাকায় ৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় সুরমা নদীর পানি সুনামগঞ্জ শহরের ষোলঘর পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে ৭ দশমিক ৪২ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। ছাতক পয়েন্টে পানি ১১ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ৮ দশমিক ৭৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে, সুনামগঞ্জ-হবিগঞ্জের সীমানায় কুশিয়ারা নদীর পানি দিরাই উপজেলার মার্কুলি পয়েন্টে ৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ৭ দশমিক ১০ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ভারতের মেঘালয় প্রদেশে বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হয়েছে। মেঘালয়ের মাউসিনরাম এলাকায় ৭ মিলিমিটার, মাওকিরওয়াত এলাকায় ১ দশমিক ৫ মিলিমিটার, আর কে এম সোহরা এলাকায় ১৪ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জি এলাকায় ৬ দশমিক ৬ মিলিমিটার এবং শেল্লা এলাকায় ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ পৌরশহরের উত্তর আরপিন নগর এলাকার বাসিন্দা রুজেল আহমদ বলেন, ৭-৮ দিন ধরে টানা বৃষ্টিপাতের পর গতকাল সোমবার দুপুর থেকে বৃষ্টি থেমেছে এবং সুরমা নদীর পানি কমেছে। আজও সুনামগঞ্জের আকাশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। এভাবে বৃষ্টি না হলে নদীর পানি আরও কমবে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ সজিব হোসাইন বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জে আগামী আরও এক দিন কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টি হতে পারে। এ সময়ে কোথাও বৃষ্টি, কোথাও রোদ থাকতে পারে। আগামী ১৬ জুলাই থেকে এ অঞ্চলে আবারও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ মো. এমদাদুল হক বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জ ও ভারতের মেঘালয় এলাকায় আরও এক দিন মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি না হওয়ায় সুরমাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি কমছে। ভারি বৃষ্টি না হলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি কমবে এবং সুনামগঞ্জ বন্যার আশঙ্কা থেকে মুক্ত হবে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ১ হাজার ৩১১টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪৯২টি নৌযান, স্বেচ্ছাসেবক এবং ১ হাজার ৫৬টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবাইকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরটিভি/টিআর