বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ , ০৩:২৮ পিএম
সরকারের কাছে একটি ইপিজেডের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন গাইবান্ধার ২৬ লাখ মানুষ। কেননা এই একটি ইপিজেডই পারে বন্যা-খরা আর নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত মানুষের ভাগ্য বদলাতে।
গাইবান্ধায় ভারী শিল্প বলতে কেবল ছিল- রংপুর চিনিকল, সেটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে কৃষি ছাড়া কর্মসংস্থানের বিকল্প কোনো পথ না থাকায় দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে এ জনপদের মানুষ। এ অবস্থায় গাইবান্ধার প্রায় ২৬ লাখ মানুষের ভাগ্যবদল ও বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বা প্রস্তাবিত ইপিজেড বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
সাত উপজেলা নিয়ে গঠিত গাইবান্ধার মোট জনসংখ্যার শতকরা ৫৬ দশমিক ৭৪ ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এছাড়া ৩৪ দশমিক ০৪ ভাগ মানুষ সেবাখাতে এবং মাত্র ৯ দশমিক ২২ ভাগ মানুষ শিল্পখাতে নিয়োজিত রয়েছেন। এখানে পর্যাপ্ত ভারী শিল্পকারখানা না থাকায় তীব্র কর্মসংস্থান সংকট তৈরি হয়েছে। আমন ও বোরো মৌসুমে ধানের চারা রোপণ ও ধান কাটা ছাড়া গ্রামে কোনো কাজ থাকে না। ফলে কাজের জন্য রাজধানী ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছুটতে হয় কর্মহীন মানুষকে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের মতে, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বেকারত্ব দূরীকরণের লক্ষ্যে গাইবান্ধায় দ্রুত প্রস্তাবিত ইপিজেড বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত প্রয়োজন। এর ফলে শুধু গাইবান্ধা নয়, বরং পার্শ্ববর্তী রংপুর ও দিনাজপুরের মানুষের জন্যও কর্মসংস্থানের বিশাল দুয়ার উন্মোচিত হবে।
ইপিজেড নির্মাণের লক্ষ্যে ইতঃপূর্বে রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের সাড়ে ৪০০ একর জায়গা বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ বা বেপজার কাছে হস্তান্তর করে শিল্প মন্ত্রণালয়। ভৌগোলিক দিক থেকে এই প্রস্তাবিত ইপিজেডের অবস্থানও অত্যন্ত সুবিধাজনক স্থানে। প্রস্তাবিত ইপিজেড থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের দূরত্ব মাত্র ৭০ কিলোমিটার, হিলি স্থলবন্দরের অবস্থান মাত্র ৩২ কিলোমিটার দূরে এবং ৩৪ কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত বগুড়া বিমানবন্দর।
জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান সেলিম গণমাধ্যমকে বলেন, যোগাযোগের এই চমৎকার সুবিধার কারণে এখানে ইপিজেড সফল হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ। এই ইপিজেড বাস্তবায়ন হলে পিছিয়ে পড়া এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে।
গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য শামীম কায়সার লিংকন গণমাধ্যমকে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যে এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, গাইবান্ধায় এই ইপিজেডটি বাস্তবায়িত হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এটি সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে এবং বাস্তবায়নের জন্য জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আরটিভি/এমএইচজে