বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১৪ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মধ্যরাতে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে সফিক মিয়া (৪২) নামে এক ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, বিদ্যুতের ছেঁড়া তার মেরামতের কথা বলে তাকে ঘর থেকে নিয়ে যাওয়া হলেও, জেনে-শুনেই তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। তারা ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে আখাউড়া-চেকপোস্ট সড়কের দক্ষিণ ইউনিয়নের বঙ্গের চর মসজিদের পূর্ব পাশে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সফিক মিয়া আখাউড়া উপজেলার কেন্দুয়াই গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের আঁধারে হেলাল মিয়া ও জহিরুল ইসলাম বেকু (এক্সকেভেটর) দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় বিদ্যুতের মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে যায়। এরপর তারা সফিক মিয়াকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, ছেঁড়া তার মেরামতের সময় তাকে বেকুর বুমে তুলে উঁচুতে নেওয়া হলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাগিনা সোহাগ মিয়া বলেন, রাত ১টার দিকে হেলাল ও জহির আমার মামাকে জোর করে ঘর থেকে নিয়ে যায়। তারা বালু উত্তোলনের সময় নিজেরাই বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে ফেলেছিল। পরে সেই তার ঠিক করতে নিয়ে গিয়ে আমার মামাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম বলেন, আমি গাজীর বাজারে ফুটবল খেলা দেখছিলাম। তখন দেখি হেলাল ও জহির মোটরসাইকেলে করে সফিককে পূর্ব দিকে নিয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ পর আবার দেখি তাকে সিএনজিচালিত রিকশায় করে হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। পরে জানতে পারি, তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে দেখি চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হেলাল মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/এসএস