images

দেশজুড়ে

লঘুচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬ , ১০:৪০ পিএম

লঘুচাপের প্রভাবে আগুনমুখা, দারছিড়া, বুড়াগৌরাঙ্গ ও রাবনাবাদ নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে জোয়ারের সময় চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে কয়েক ঘণ্টা পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এদিকে সকাল থেকে রাঙ্গাবালী উপজেলায় কখনো রোদ, কখনো মেঘলা আকাশ, আবার কখনো থেমে থেমে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে দেখা গেছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে মাছ ধরা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, গোলবুনিয়া ও বিবির হাওলা গ্রাম। জোয়ারের পানিতে বসতবাড়ির আঙিনা, রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার বাড়ি থেকে বের হতে সমস্যায় পড়ে। কোথাও কোথাও উঠান ও ঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠে যায়।

এদিকে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা, পরবর্তী জোয়ারেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের পানি অনেক বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। এতে বাড়িঘরের পাশাপাশি কৃষিজমি, পুকুর এবং চলাচলের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

দুপুর দেড়টার দিকে ভাটা শুরু হলে ধীরে ধীরে পানি নামতে থাকে। বিকেলের দিকে অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার এবং স্থায়ী, টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা এলাকার বাঁধ ভেঙে থাকলেও তা স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে জোয়ার এলেই বারবার দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে উপকূলের মানুষকে।

আরটিভি/টিআর