শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৫৩ পিএম
পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় তাবিজ দেওয়ার কথা বলে এক নারীকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুব (৪৫) নামে এক জামায়াত নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে উপজেলার মাধবখালী ইউনিয়নের উত্তর চৈতা গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার মাহাবুব উত্তর চৈতা গ্রামের মৃত জয়নাল মৌলভীর ছেলে। তিনি মাধবখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি এবং পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক। বাড়ির পাশেই তার একটি ফার্মেসি রয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ভুক্তভোগী নারী তার ভাইয়ের ছেলের পড়াশোনার উন্নতির জন্য তাবিজ দেওয়ার কথা শুনে মাহাবুবের বাড়িতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাকে একটি ঘরে আটকে রেখে জোরপূর্বক টানাহেঁচড়া করা হয় এবং তার পরিহিত বোরখা ও হিজাব খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ভুক্তভোগী নারীর একটি ছেলে রয়েছে। প্রায় এক বছর আগে স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি হলে পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার সমাধানের আশায় তিনি প্রায়ই মাহাবুবের কাছে তাবিজ নিতে যেতেন। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগও ছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন সকালে মাহাবুব তার স্ত্রী ও সন্তানদের শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। পরে সন্ধ্যায় ওই নারীকে বাড়িতে ডাকেন। প্রায় দুই ঘণ্টা তারা ঘরের ভেতরে অবস্থান করার পর নারীর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে ভুক্তভোগী নারী মির্জাগঞ্জ থানায় ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মিরাজ বলেন, সন্ধ্যার দিকে ওই নারীকে মাহাবুবের বাড়িতে দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন ঘরে প্রবেশ করলে ওই নারী অভিযোগ করেন, তাবিজ দেওয়ার কথা বলে তাকে ডেকে এনে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
এদিকে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এখনও তার জানা নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুজ্জামান জানান, ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন। মামলার আসামি মো. মোস্তাফিজুর রহমান মাহাবুবকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত বলে গণ্য করা যাবে না।
আরটিভি/এসকে