images

দেশজুড়ে

অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে বীজ সংরক্ষণাগার, সেবাবঞ্চিত কৃষক

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ১০:৪৮ পিএম

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে নির্মিত কোটি টাকার বীজ সংরক্ষণাগার (সীড স্টোর) ভবনগুলো বছরের পর বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ এসব ভবন একদিকে যেমন সরকারি সম্পদের অপচয় ঘটাচ্ছে, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের কৃষকদের সেবা কার্যক্রম।

স্থানীয় ও কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে বাগাতিপাড়া সদর, পাঁকা, জামনগর ও দয়ারামপুর ইউনিয়নে কৃষকদের দোরগোড়ায় কৃষিসেবা পৌঁছে দেওয়া, উন্নত বীজ সংরক্ষণ, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (এসএএও) ইউনিয়ন পর্যায়ে অবস্থান নিশ্চিতকরণ এবং প্রান্তিক কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার জন্য এসব বীজ সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু নির্মাণের পর দীর্ঘ বছর ধরে ভবনগুলো কার্যত অব্যবহৃত পড়ে থাকায় ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের মূল উদ্দেশ্য।

বিভিন্ন ইউনিয়নের ঘুরে দেখা যায়, অযত্ন ও অবহেলায় সীড স্টোর ভবনগুলোর অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। অধিকাংশ ভবনের দরজা-জানালা ভেঙে গেছে, দেয়ালে ফাটল ধরেছে, খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা। চারপাশে ঘন ঝোপঝাড় জন্মে ভবনগুলো পরিণত হয়েছে ভুতুড়ে বাড়িতে। কোথাও ভবন দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে চায়ের দোকান, আবার কোথাও বসেছে ক্যারাম খেলার আসর। ফলে কৃষি সেবার জন্য নির্মিত স্থাপনাগুলো এখন ব্যবহৃত হচ্ছে ভিন্ন কাজে।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়ন পর্যায়ের এই ভবনগুলো সচল থাকলে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের সহজে পাওয়া যেত। সেইসাথে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সহজতর হত। ভবনগুলোর যথাযথ ব্যবহার না হওয়ায় সামান্য প্রয়োজনেও কৃষকদের ছুটতে হচ্ছে উপজেলা সদরে। ফলে কৃষকদের অতিরিক্ত অর্থ যেমন ব্যয় হচ্ছে, তেমনি প্রয়োজন হচ্ছে অতিরিক্ত সময়।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

কচুরিপানার নিচে ১০ ঘণ্টা লুকিয়ে ছিল দুই গরুচোর, অতঃপর...

বাঁশবাড়িয়া এলাকার কৃষক রাজিবুল হাসান বলেন, চাষাবাদ সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায় না। নির্দিষ্ট কার্যালয় না থাকায় তারা কোথায় থাকেন, তা অনেক সময়ই জানা যায় না। ফলে প্রয়োজন হলে উপজেলা সদরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থের খরচ বেশি হয়। অথচ বাড়ির পাশেই একটি বড় ভবন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। ভবনটি চালু হলে কৃষকদের কৃষি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা সহজেই পাওয়া যাবে। পাশাপাশি যাতায়াতের খরচও কমবে। দ্রুত ভবন চালু করে কার্যক্রম চালু করার দাবি জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়ভাবে নির্দিষ্ট অফিস না থাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষি কর্মকর্তারা একই ধরনের সমস্যার কথা জানান।

বাগাতিপাড়া সদর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (এসএএও) মাহাতাব উদ্দিন বলেন, আমি পাশের জেলা থেকে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাগাতিপাড়ায় এসে দায়িত্ব পালন করি, যা বেশ কষ্টসাধ্য। বীজ সংরক্ষণাগার ভবনগুলো ভালো থাকলে সেখানে থেকেই দায়িত্ব পালন করা অনেক সহজ হতো। এতে কৃষকরাও দ্রুত যেকোনো পরামর্শ নিতে পারতো। তবে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় উপজেলার সবকটি সীড স্টোরের অবস্থাই বর্তমানে নাজুক।

এ বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. ভবসিন্ধু রায় বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের বীজ সংরক্ষণাগারগুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। পুরোনো ভবনগুলোর স্থলে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নতুন ভবন নির্মাণ করা হলে সেখানে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের আবাসন, কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এবং বীজ সংরক্ষণাগারের ব্যবস্থা রাখা সম্ভব হবে। এতে প্রান্তিক কৃষকরা আরও সহজে সেবা পাবেন বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও জানান, ভবনগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করে কৃষি অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরটিভি/ এসকেডি