images

দেশজুড়ে

প্রেমের টানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসে ‘হুলুস্থুল কাণ্ড’ চীনা যুবকের

রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬ , ০৯:২৯ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার এক তরুণীর প্রেমে পড়ে বাংলাদেশে এসেছেন চীনের নাগরিক সোহান চাও (৩৮)। বাংলাদেশে এসে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে নাম পরিবর্তন করে মোহাম্মদ রাখেন তিনি। পরে প্রেমিকা আয়েশা সুলতানাকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন এই চীনা যুবক। 

শনিবার (১৮ জুলাই) বিষয়টি জানাজানি হলে তাকে এক নজর দেখতে কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায় কসবার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

আয়েশা সুলতানা (২১) কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের বাইসার গ্রামের আবদুল আলিমের মেয়ে। সোহান চাও চীনের হেনান (Henan) প্রদেশের নানইয়াং (Nanyang) শহরের বাসিন্দা এবং সংফু ফ্যাংয়ের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন মাস আগে একটি অনলাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়েশা ও সোহান চাওয়ের পরিচয় হয়। নিয়মিত কথোপকথনের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে গত ১২ জুন বাংলাদেশে আসেন সোহান চাও। আয়েশা তাকে বিমানবন্দর থেকে নিজ গ্রামে নিয়ে যান। পরে ১৪ জুন তারা ঢাকায় যান।

আয়েশা জানান, ঢাকায় আইনজীবী লিমা আক্তারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। এ সময় সোহান চাওয়ের বাবা সংফু ফ্যাংয়ের সঙ্গেও কথা বলা হয়। পরিবারের সম্মতিতে সোহান চাও ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ধর্মান্তরের পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ। এরপর তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর তারা ঢাকায় বসবাস করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার তিনি স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি বাইসার গ্রামে আসেন।

শনিবার বিকেলে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় উৎসুক মানুষ আয়েশার বাড়িতে ভিড় করেন। অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চীনা যুবকের ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেন।

আয়েশার বাবা আবদুল আলিম বলেন, ১২ জুন সে বাংলাদেশে আসে। পরে ঢাকায় গিয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর আমার মেয়ের সঙ্গে তার বিয়ে দিই। বর্তমানে আমার মেয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করা হচ্ছে। সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তারা চীনে যাবে। আমি জেনে-শুনেই মেয়ের বিয়ে দিয়েছি।

স্থানীয় যুবক সাগর চৌধুরী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে বিয়ের পর নানা ধরনের প্রতারণার ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে এসেছে। তাই এ ধরনের আন্তর্দেশীয় বিয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও তদারকি থাকা উচিত।

আরও পড়ুন
6665

পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে প্রাণ গেল রাজমিস্ত্রির

এ বিষয়ে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আমি খোঁজখবর নিচ্ছি, প্রয়োজন হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি / এসএস