images

দেশজুড়ে

সৈকতে ভেসে এলো বিরল ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ মাছ

সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ০৩:১৯ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকতে বিরল প্রজাতির একটি মৃত সামুদ্রিক ‘ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট’ বা ‘ফাইলফিশ’ ভেসে এসেছে। স্থানীয়ভাবে মাছটি ‘জ্যাকেট মাছ’ এবং কোনো কোনো এলাকায় ‘পটকা মাছ’ নামে পরিচিত।

রোববার (১৯ জুলাই) শেষ বিকেলে কুয়াকাটার চর গঙ্গামতী সৈকতে মাছটি দেখতে পান আব্দুল জলিল নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি। পরে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের মধ্যে তীব্র কৌতূহলের সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই মাছটি দেখতে ভিড় জমান।

আরও পড়ুন
loud-sergon-fish

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ল বিরল ‘লাইন্ড সার্জন ফিশ’

মাছটির প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল জলিল জানান, বিকেলে মোটরসাইকেলে করে চর গঙ্গামতী এলাকায় যাওয়ার সময় সমুদ্রতীরে বালুর ওপর অদ্ভুত আকৃতির এই মৃত মাছটি পড়ে থাকতে দেখেন। ধারণা করা হচ্ছে, আগের রাতের জোয়ারের পানিতে মাছটি সৈকতে ভেসে এসে আটকে পড়েছিল।

স্থানীয় পর্যটন ও পরিবেশকর্মী কে এম বাচ্চু বলেন, সম্ভবত রাতের জোয়ারের পানিতে মাছটি ভেসে এসেছে। আমাদের এলাকায় এর আগে কখনো এ ধরনের মাছ দেখা যায়নি। বিষয়টি সত্যিই ব্যতিক্রমী ও বিস্ময়কর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইলফিশের শরীর বেশ চ্যাপটা এবং চামড়া খসখসে ও চামড়ার জ্যাকেটের মতো শক্ত হওয়ায় এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘লেদারজ্যাকেট’। এর বৈজ্ঞানিক নাম আলুটেরাস মোনোসেরাস। এ মাছের মাথার ওপর একটি ছোট ও পাতলা কাঁটা থাকে। এরা মূলত গভীর সমুদ্রে বসবাস করে এবং সমুদ্রের তলদেশের শৈবাল, স্পঞ্জ, জেলিফিশ, ছোট ক্রাস্টেশিয়ান, চিংড়ি, শামুক ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণী খেয়ে এরা বেঁচে থাকে।

আরও পড়ুন
lion-fish

কুয়াকাটায় জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল প্রজাতির লায়নফিশ

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, এটি ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট বা ফাইলফিশ। এটি মূলত গভীর সমুদ্রের মাছ। সামুদ্রিক পরিবেশগত পরিবর্তন, ঝড়ো আবহাওয়া, সমুদ্রের স্রোতের পরিবর্তন কিংবা অসুস্থতার কারণে মাঝেমধ্যে এ ধরনের মাছ উপকূলে মৃত অবস্থায় ভেসে আসতে পারে।

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, মাছটি ফাইলফিশ প্রজাতির বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। উপকূলে এমন বিরল সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে এলে তা সংরক্ষণ ও পরবর্তী গবেষণার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করা অত্যন্ত জরুরি।

আরটিভি/এমএম