সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ , ০৮:১১ পিএম
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকারি জায়গায় অবস্থিত ৬১ বছরের পুরোনো ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিজের দাবি করে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গ্রাম্য প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি দখলের জানান দিতে ওই প্রভাবশালী ঈদগাহ মাঠের ইটের সীমানা প্রাচীর ভেঙে নতুন করে টিনের বেড়া দিয়েছেন।
রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামে ঈদগাহ মাঠে টিনের বেড়া দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন, ওই গ্রামের প্রভাবশালী মো. জিয়াউল হকের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা দেশিগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের পাকা গ্রামীণ সড়কসংলগ্ন সাত শতক জায়গায় প্রায় ৬১ বছর আগে থেকে ঈদগাহ মাঠ হিসেবে জায়গাটি ব্যবহার করে আসছেন গ্রামবাসী। ২০২৬ সালেও ঈদের নামাজ আদায়ের পাশাপাশি দেওড়া গ্রাম ঈদগাহ মাঠ কমিটির পক্ষে ওই জায়গার লিজও নবায়ন করা হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি একই গ্রামের প্রভাবশালী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঈদগাহ মাঠের জায়গাটি নিজের দাবি করে গ্রামবাসীর সঙ্গে বিরোধে জড়ান। পাশাপাশি রোববার রাতে জাহাঙ্গীর হোসেন তার লোকজন নিয়ে ঈদ মাঠের পুরোনো ইটের প্রাচীর ভেঙে জোরপূর্বক জায়গাটি দখল নেন। একই সঙ্গে ঈদমাঠের সাত শতক জায়গা টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে ফেলেন।
সোমবার সকালে হঠাৎ করে গ্রামবাসী ঈদ মাঠের চারদিকে টিনের বেড়া দেখে নিশ্চিত হন যে, পুরোনো ঈদগাহ মাঠটি দখল হয়ে গেছে। তখন গ্রামীবাসী জরুরি সেবা নম্বরে ৯৯৯-এ কল করেন। কিন্তু প্রশাসনের কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিকার পেতে সোমবার বিকেলে দেওড়া ঈদগাহ কমিটি সদস্য আলম জাহাঙ্গীর তাড়াশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঈদগাহ মাঠ দখলের কথা স্বীকার করে বলেন, জায়গাটি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। কিন্তু গ্রামবাসীর বাধায় তা দখল নিতে পারিনি। এখন সময় হয়েছে তাই আমি জায়গাটির দখল বুঝে নিয়েছি।
এ বিষয়ে দেওড়া ঈদগাহ কমিটি সদস্য আলম জাহাঙ্গীর বলেন, ঈদগাহের জায়গাটি মূলত সরকারি সম্পত্তি। যা আমরা আইন মোতাবেক ঈদ মাঠ হিসেবে লিজ নিয়ে বহু বছর ধরে দুটি ঈদের নামাজ পড়ে আসছি। কিন্তু সম্প্রতি দখলদার জায়গাটি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তা দখল করে নিয়েছে। এটা অন্যায়।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তাড়াশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জেএম নাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি প্রাথমিক তদন্তের জন্য দেশিগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে