মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ১০:০২ এএম
বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনাল খেলা দেখতে যেতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরে অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।
ঘটনাটি গত রোববার (১৯ জুলাই) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ব্রহ্মপাড়া ওয়াপদা টেক এলাকায় ঘটে।
ভাইরাল হওয়া প্রায় দুই মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, গৃহবধূ মরিয়ম বেগম মারধরের শিকার হয়ে আর্তনাদ করছেন এবং কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বামীর কাছে প্রাণভিক্ষা চাইছেন। এ সময় অভিযুক্ত স্বামী জহিরুল ইসলাম তাকে বিভিন্ন কথা বলতে বলতে নির্দয়ভাবে নির্যাতন করেন। ভিডিও ধারণকারী এক ব্যক্তি জহিরুলকে থামানোর চেষ্টা করে তার আচরণের প্রতিবাদও জানান।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মরিয়মের বাড়ি চট্টগ্রামে। প্রায় দুই বছর আগে জহিরুল ইসলাম তাকে বিয়ে করে রামগঞ্জে নিয়ে আসেন। তাদের সংসারে পাঁচ মাস বয়সী একটি সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, জহিরুল প্রায়ই স্ত্রীকে বিভিন্ন কারণে নির্যাতন করতেন। স্থানীয়দের দাবি, তিনি মাদকাসক্ত এবং ঘটনার দিনও মাদক সেবনের পর স্ত্রীকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন। এতে মরিয়মের হাত-পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লাগে। পরে অভিযুক্ত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী মরিয়মের দাবি, পাঁচ মাসের শিশুকে নিয়ে তিনি একাই বাড়িতে ছিলেন। স্বামীকে বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা দেখতে বাইরে যেতে নিষেধ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে জহিরুল তাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে আহত করেন।
ঘটনার ভিডিও সোমবার (২০ জুলাই) ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, এ ঘটনায় এখনো ভুক্তভোগী বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আরটিভি/এসকে