images

দেশজুড়ে

বড় বোনকে বাঁচাতে গিয়ে প্রতিপক্ষের হামলায় গর্ভের সন্তান হারালেন ছোট বোন

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ১০:২৩ এএম

বড় বোনকে মারধরের খবর পেয়ে বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিলেন ছোট বোন। এ সময় বড় বোনের বাড়িতে হামলার দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করতে গেলে প্রতিপক্ষের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। পেটে লাঠির আঘাতে তিন মাসের গর্ভের সন্তান হারিয়েছেন ময়না আক্তার নামের ওই নারী। বর্তমানে তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ময়না আক্তারকে দেখা যায়।

ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, সদরপুর উপজেলার ভাষাণচর ইউনিয়নের নতুনবাজার গ্রামের আব্দুল জলিল খানের চার মেয়ে। বড় মেয়ে পারভিন বেগম (৪৬) কয়েক বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফেরেন। দেশে এসে চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বালাডাঙ্গা এলাকায় জমি কিনে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। স্বামী না থাকায় তিনি একাই থাকেন এবং মাটি কাটার শ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
 
ওই বাড়িটি দখলে নিতে প্রতিবেশী মজিবর, মোজাফফর, বাবলু, শহীদসহ আরও কয়েকজন বিভিন্ন সময় অত্যাচার ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। সবশেষ শুক্রবার (১৭ জুলাই) মজিবর ও মোজাফফর বড় বোন পারভিন বেগমের ওপর হামলা করেছে এমন খবর পেয়ে ছুটে যান ছোট বোন ময়না আক্তার। হামলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে গেলে ময়নার ওপরও হামলা চালায় মজিবর ও তার লোকজন।
 
এ সময় পেটে তিন মাসের সন্তান রয়েছে জানিয়ে বাঁচার আকুতি জানালেও নির্যাতন থামায়নি প্রতিপক্ষ। পরে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর আহত অবস্থায় ময়না আক্তারকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার গর্ভপাত হয়। এ ঘটনায় সদরপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।
 
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী ময়না আক্তার বলেন, হামলার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করতে গেলে তারা আমার ওপরও হামলা চালায়। পেটে তিন মাসের সন্তান রয়েছে বলে বাঁচার আকুতি জানালেও তারা নির্যাতন থামায়নি। আমার পেটে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমার পেটের সন্তানের মৃত্যু হয়। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।

আরও পড়ুন
Web-Image9

ব্রিজ-সংলগ্ন সড়ক ধসে যোগাযোগ ব্যাহত, দ্রুত সংস্কারের দাবি


 
বড় বোন পারভিন বেগম বলেন, আমার জমি দখল করার জন্য ওরা প্রতিনিয়ত আমাকে মারধর ও হুমকি দেয়। আমার স্বামী না থাকায় অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমন করছে। স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে বলেও কোনো সমাধান পাইনি। আমাকে তো মারছেই, মারধর করার সময় ওদের কাছে হাতজোড় করে বলেছিলাম আমার বোনের পেটে সন্তান রয়েছে, ওকে মারিস না। কিন্তু তারা শোনেনি।

তিনি আরও বলেন, আমার বোনের স্বামী মালয়েশিয়া প্রবাসী। কয়েক মাস আগে দেশে এসেছেন, কিছুদিন পর চলে যাবেন; এমন সময়ে এ ঘটনা ঘটালো ওরা। থানায় মামলা করতে গেলে মামলা নিয়েছে ঠিকই, কিন্তু আমরা যা উল্লেখ করেছি, পুলিশ তা নেয়নি।
 
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সামনে মেঝেতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখা যায় ময়না আক্তারকে। হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্স মিনতি সরকার জানান, আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ময়না আক্তারের গর্ভপাত হয়ে গেছে।
 
এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে মামলায় ভ্রূণ নষ্টের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।
 
এ বিষয়ে হামলার ঘটনায় জড়িত প্রতিপক্ষের লোকজনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আরটিভি/এমএ