মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৭ এএম
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোনার কলমাকান্দার বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ভেঙে গেছে। এতে ব্যাহত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তলিয়ে গেছে সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ঘরবাড়ি, পুকুর ও শাকসবজির খেত।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে পানির তীব্র স্রোতে উপজেলার গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন একাংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
পানির চাপে গজারমারি থেকে খারনৈ পর্যন্ত প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার সড়কের শ্রীপুর এলাকায় অন্তত পাঁচটি স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে বলে জানান খারনৈ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ওবায়দুর হক।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ি ঢলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও এবার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। তারা ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার, নদী ভাঙনরোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
খারনৈ ইউনিয়নের গজারমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। বিদ্যালয়টির একটি অফিস কক্ষ ও একটি শ্রেণিকক্ষ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বিদ্যালয়ে যাতায়াতের সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক দ্বীন ইসলাম বলেন, পাহাড়ি ঢলের তীব্র স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ও একটি শ্রেণিকক্ষ নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় নথিপত্র, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণের ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালিয়ে নেওয়া এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, উপজেলার প্রধান উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা সদর ডাকবাংলা পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে সোমেশ্বরী, কংস, মগরা, ধনুসহ অন্য নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে নিম্নাঞ্চলে নতুন করে প্লাবিত ও নদীভাঙনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
আরটিভি/টিআর