বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ০৯:২১ এএম
সাভারে অটোরিকশা চুরির সন্দেহে গণপিটুনিতে আবুল খায়ের পাটোয়ারী (৩০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। এ ঘটনায় অটোরিকশাচালক সবুজ ওরফে শুভ এবং একটি অটোরিকশা গ্যারেজের মালিক নুরুজ্জামানকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার(২০ জুলাই) দুপুরে সাভার পৌরসভার উলাইল এলাকার একটি অটোরিকশা গ্যারেজে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় আবুল খায়েরকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে হাসপাতাল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত আবুল খায়ের পাটোয়ারী চাঁদপুর সদর উপজেলার কল্যাণপুর দাসাদী গ্রামের লোকমান পাটোয়ারীর ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ঘটনার আগে অটোরিকশাচালক সবুজ তার ছোট ছেলেকে রিকশা পাহারায় রেখে বাসায় খাবার খেতে যান। এ সময় আবুল খায়ের শিশুটিকে বলেন, দুই দিন ধরে ভাত খাইনি। ভাত নিয়ে আসো। পরে শিশুটি বিষয়টি তার বাবাকে জানালে তিনি এসে আবুল খায়েরকে অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরে বসে থাকতে দেখেন। এরপর তাকে অটোরিকশা চোর সন্দেহে মারধর করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, পরে তাকে একটি অটোরিকশা গ্যারেজে নিয়ে গিয়ে আরও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা হাসপাতাল থেকে চলে যান।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কামরুন্নাহার জানান, সোমবার দুপুরে দুই ব্যক্তি অটোরিকশাযোগে আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
নিহতের প্রতিবেশী আব্দুল মোতালেব হোসেন বলেন, আবুল খায়ের মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। রোববার ভোরে তিনি চাঁদপুরের বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে সাভার থানা থেকে ফোনে তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
আটক গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান দাবি করেন, তার গ্যারেজে আনার আগেই স্থানীয় লোকজন ওই যুবককে মারধর করেছিলেন। পরে গ্যারেজে কয়েকজন অটোরিকশাচালকও তাকে মারধর করেন। তিনি নিজে মারধর করেননি বলে দাবি করেন। তার ভাষ্য, পরে আরেকজনের সহায়তায় আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ভয় পেয়ে তিনি সেখান থেকে চলে আসেন।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। অন্য কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
আরটিভি/এসকে