images

দেশজুড়ে

বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের হৃদয়বিদারক গল্প, শোকেরও ছুটি নেই

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ০১:১৭ পিএম

বাবাকে বিকেলে দাফন করেছেন। কিন্তু শোক পালন করারও সুযোগ হয়নি। রাতেই বই হাতে ছুটতে হয়েছে বাগেরহাট কৃষি ব্যাংকের এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মীর দায়িত্ব পালন করতে। আর পরদিন সকালে বসতে হয়েছে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায়। বাগেরহাটের শিক্ষার্থী ইকনের এমন হৃদয়বিদারক গল্প প্রকাশ্যে আসার পর নিরাপত্তাকর্মীদের কর্মপরিবেশ, ছুটি ও পারিশ্রমিক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, ইকনের মতো অধিকাংশ নিরাপত্তাকর্মী বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালন করেন। তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কাজ করলেও বেতন পান এজেন্সির কাছ থেকে। অভিযোগ রয়েছে, এজেন্সিগুলো তাদের পারিশ্রমিকের একটি অংশ কেটে রাখে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্মঘণ্টার বাইরে দিন-রাত টানা দায়িত্ব পালন করতে হয়। আর যারা খণ্ডকালীন (পার্টটাইম) কাজ করেন, তাদের সাধারণত রাতের শিফটে দায়িত্ব পালন করতে হয়।

এদিকে, ইকনের মানবিক এই গল্প গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাগেরহাট প্রতিনিধি রুহুল আমিন বাবু জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ইতোমধ্যে কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইকনের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে।

ইকনের বাবা ইসরাফিল দাড়িয়া মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দুপুরে তিনি মারা যান। ৪৬ বছর বয়সী ইসরাফিল মোটরসাইকেল চালিয়ে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করতেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ইকনের দাদার বাড়ি গোপালগঞ্জে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডে গাড়িচালক হিসেবে চাকরির সুবাদে পরিবারটি বাগেরহাটে আসে। অবসরের পর দাদা গোপালগঞ্জে ফিরে গেলেও ইকনের বাবা বাগেরহাটেই থেকে যান। বর্তমানে মা ও মানসিক ভারসাম্যহীন এক ভাইকে নিয়ে মাসে সাড়ে তিন হাজার টাকা ভাড়ার একটি বাসায় তাদের বসবাস।

বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে বাগেরহাট কৃষি ব্যাংকের এক কর্মকর্তা ইকনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জানাজায় অংশ নেন। ওই কর্মকর্তা জানান, তিনি ইকনকে প্রয়োজনে সেদিন ডিউটিতে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

আরও পড়ুন
Web-Image

বিকেলে বাবার দাফন, রাতে এটিএম বুথে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষা

তবে সংসারের দায়িত্ব ও বাস্তবতার কাছে হার মানতে হয়েছে ইকনকে। বাবাকে দাফনের কয়েক ঘণ্টা পরই তিনি বই হাতে এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন করতে যান। তার মুখ থেকেই উঠে আসে সংগ্রাম, দায়িত্ববোধ ও বেদনায় মোড়া এক তরুণের জীবনের নির্মম বাস্তবতার গল্প।

আরটিভি/এসকে