images

দেশজুড়ে / অর্থনীতি

সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ০২:৩৮ পিএম

কুড়িগ্রামের সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে গত ১৮ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্যে পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন ব্যবসায়ীরা।

স্থলবন্দরের আমদানিকারকদের অভিযোগ, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া বেশকিছুদিন থেকে নিম্নমানের মাটিমিশ্রিত পাথর সরবরাহ করছে তারা। এসব নিম্নমানের পাথর আর চড়া দাম বাংলাদেশে দামের সঙ্গে মিলছে না। এতে প্রতিনিয়ত লোকসানে পড়ছেন আমদানিকারকরা। ফলে পাথর আমদানি সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে।

দেশের ১৮তম সোনাহাট স্থলবন্দর কুড়িগ্রামের সোনহাট স্থলবন্দর। গত ৪ দিনে এ বন্দরে একটি ট্রাকও বাংলাদেশে আসেনি। তাই বন্দরের চিত্রটি ভিন্ন। বন্দরের ওয়্যার হাউজ ফাঁকা পড়ে আছে। বন্দরে কোনো ভারতীয় ট্রাকের আনাগোনা নেই, অলস পড়ে আছে পাথর ভাঙার বেল্ট মেশিনগুলো, অধিকাংশ ডিপো পাথর শূন্য এবং ট্রাক টার্মিনাল খালি পড়ে আছে।

স্থলবন্দর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিদিন গড়ে ১২০টির মতো ভারতীয় ট্রাক পাথর নিয়ে বন্দরে প্রবেশ করত। এখন পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থা।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

সাভারে লিঙ্গ বৈচিত্র্য জনগোষ্ঠীর উদ্যোক্তা ও চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত

পাথর আমদানিকারকদের অভিযোগ, বেশকিছু দিন থেকে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা যে পাথর দিচ্ছে তা গুণগত মানের দিক থেকে অত্যন্ত খারাপ। এছাড়াও রিভার স্টোন বোল্ডার না দিয়ে দিচ্ছে ছোট পাথর। যা অটোক্রাশ মেশিনের মাধ্যমে ভাঙালে অনেক ছোট হয়ে যাচ্ছে। এতে পাথরের স্বাভাবিক মাপের সঙ্গে না মেলায় কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাথর কিনতে চাচ্ছে না।

এছাড়া ভারতীয় ব্যবসায়ীরা হঠাৎ পাথরের দাম বৃদ্ধি করেছে। এর আগে প্রতি টন রিভার স্টোন ১১ ডলার দাম ছিল। যা বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত খরচ হতো ১ হাজার ২৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। বর্তমানে সেই পাথরের দাম বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৫ ডলার করেছে। তাতে বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত খরচ পড়ছে ১ হাজার ৬৭০ টাকা। এছাড়াও ভারত থেকে যে পাথর আমদানি করা হয় তা সরাসরি খনি থেকে ট্রাকে লোড করায় পাথরের সঙ্গে মাটি ও বালি পরিমাণ বেশি থাকায় পাথর ভাঙার পর মান খারাপ হচ্ছে। ভারতের ব্যবসায়ীরা একতরফাভাবে দাম বৃদ্ধি ও নিম্নমানের পাথর সর্বরাহের কারণে ব্যবসায়ীরা অনির্দিষ্ট কালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ রেখেছেন।

স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন ব্যাপারী জানান, ভারত থেকে চাহিদামতো পাথর না পাওয়ায় এবং পাথরের মান খারাপ হওয়ায় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তাই সাময়িকভাবে ভারত থেকে পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে।

সোনাহাট স্থলবন্দর সহকারী পরিচালক আমিনুল হক জানান, দুদেশের আমদানি ও রপ্তানিকারকদের কারণে সোনাহাট স্থলবন্দর পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।

আরটিভি/এমএইচজে