images

দেশজুড়ে / অর্থনীতি

উত্তরবঙ্গের অর্থনীতিতে নতুন আশা জোগাচ্ছে যমুনার জোড়া নৌ-বন্দর

বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬ , ০৭:৪৬ পিএম

বগুড়ার সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীতে দুটি অভ্যন্তরীণ নৌ-বন্দর নির্মাণের উদ্যোগকে ঘিরে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, বন্দর দুটি চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতেও যুক্ত হবে নতুন গতি।

বগুড়ার পাশের জেলা গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে যমুনা নদী। নদীজুড়ে জেগে উঠেছে সহস্রাধিক চর। বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগের সীমাবদ্ধতা, কৃষিপণ্য বিপণনের সুযোগের অভাব এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সেবার অপ্রতুলতার কারণে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান কাঙ্ক্ষিতভাবে উন্নত হয়নি।

বর্ষা কিংবা খরার সময় নদীপাড়ের মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। নৌ-বন্দর দুটি বাস্তবায়িত হলে সারিয়াকান্দিঘাট থেকে জামালপুর এবং ময়মনসিংহ রুটের জামথল, মথুরাপাড়া থেকে দেঘিপাড়া পর্যন্ত নৌ-যোগাযোগ সহজ হবে। অন্যদিকে ধুনটের শহরাবাড়ী বন্দর থেকে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার টেকুরিয়াহাট ও বেশাঘীর চরেও সহজে যাতায়াত করা যাবে। এতে কৃষি উৎপাদন ও বিপণনে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি পর্যটন শিল্পেরও বিকাশ ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

সোনাহাট স্থলবন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য পাথর আমদানি বন্ধ

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, নদীবন্দর চালু হলে বড় নৌযান চলাচলের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে মাঝনদীতে ঝড়-ঝঞ্ঝার সময় ঝুঁকি কমবে এবং পণ্য পরিবহনের ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে। ফলে মানুষ স্বল্প খরচে নিরাপদে পারাপার ও পণ্য পরিবহন করতে পারবেন।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নৌ-বন্দর চালু হলে চরাঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য মধ্যস্বত্বভোগীদের হাত এড়িয়ে সরাসরি দেশের বড় বড় পাইকারি বাজারে পাঠানো সম্ভব হবে। এতে পরিবহন ব্যয় কমবে, কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠায় কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি বগুড়ার সভাপতি এম এস এম আতিকুর রহমান বাদল বলেন, সারিয়াকান্দির চরাঞ্চলের সম্ভাবনাকে আমরা কাজে লাগাতে পারব। আমাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য শুধু সড়কপথে নয়, নদীবন্দরের মাধ্যমে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সহজে পাঠানো যাবে। এতে মানুষের কর্মসংস্থানও বাড়বে।

শুধু স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নই নয়, এই অভ্যন্তরীণ নৌ-বন্দরগুলোর মাধ্যমে বগুড়ার সঙ্গে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার নৌপথে সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। এতে স্থলপথের তুলনায় কম খরচে এবং সহজে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বগুড়া-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, আগামী দিনে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে চাই। নদীবন্দরের সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। দীর্ঘদিন এই এলাকার মানুষ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। নৌ-বন্দর বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেই বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।

আরটিভি/এমএইচজে