images

দেশজুড়ে

বেহাল সড়কে পাঁচ দশক ধরে ভোগান্তিতে ২০ হাজার মানুষ

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ১১:৫৭ এএম

স্বাধীনতার ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও নওগাঁর মান্দা উপজেলার কাশোঁপাড়া ইউনিয়নের নিজ কুলিহার থেকে কাঠখৈয়র পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি আজও কাঁচা ও জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি সংস্কারের অভাবে অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কজুড়ে অসংখ্য খানাখন্দ ও কাদার স্তূপ। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার বড় অংশ হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও কোথাও পানি জমে থাকায় রাস্তা ও পাশের ডোবার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনের অংশেও জমে থাকা কাদা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানির কারণে যাতায়াত প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফলে পণ্যবাহী যানবাহন, রিকশা ও ভ্যান চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। স্থানীয়রা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদা-পানি মাড়িয়ে চলাচল করছেন।

স্থানীয়রা জানান, এই সড়কটি দিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষ মান্দা উপজেলা সদর, নওগাঁ জেলা সদর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় বাজারে যাতায়াত করেন। এছাড়া কৃষকদের উৎপাদিত ধান, চাল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারজাত করার জন্যও এটি একমাত্র ভরসা।

স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই রাস্তার একই অবস্থা। কোনো যানবাহন চলতে পারে না, বৃষ্টি হলে হেঁটেও চলা যায় না। বছরের পর বছর আমরা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম বলেন, গত ৩০ থেকে ৪০ বছর ধরে রাস্তাটি বেহাল। বর্ষায় ধান-চাল বাজারে নিতে পারি না। জনপ্রতিনিধিদের বারবার জানিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। আমরা দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানাই।

স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে স্কুলে আসতে আমাকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে মোটরসাইকেল রেখে কাদা-পানি পেরিয়ে হাঁটতে হয়। ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এজন্য বর্ষায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অনেক কমে যায়।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

মসজিদের ওয়াক্‌ফ সম্পত্তি ভোগ করছেন মুতাওয়াল্লি, মুসল্লিদের বিক্ষোভ

স্থানীয় ইউপি সদস্য রইচ উদ্দিন মণ্ডল জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। জরুরি রোগী হলে অ্যাম্বুলেন্স তো দূরের কথা, অনেক সময় তক্তা বা মাচায় করে প্রধান সড়ক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়। বিষয়টি একাধিকবার চেয়ারম্যানকে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

কাশোঁপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সালাম বলেন, আমার বাড়ির সামনেই রাস্তাটির বেহাল অবস্থার বিষয়টি সত্য। তবে ইউনিয়ন পরিষদের এককভাবে কাঁচা রাস্তা পাকা করার ক্ষমতা নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করা হয়েছে। একবার এস্টিমেট ও মাপজোখও হয়েছিল, কিন্তু অজ্ঞাত কারণে কাজ শুরু হয়নি। এলাকাবাসীর স্বার্থে দ্রুত রাস্তাটি পাকাকরণ জরুরি।

এ বিষয়ে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আখতার জাহান সাথী জানান, নিজ কুলিহার থেকে কাঠখৈয়র পর্যন্ত আইডিভুক্ত আড়াই কিলোমিটার সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় বর্ষায় জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। বিষয়টি তার জানা রয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে জেলা এলজিইডিতে প্রস্তাব পাঠানো হবে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সড়কটির পাকাকরণের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

আরটিভি/এমএইচজে