images

দেশজুড়ে

অস্বাভাবিক জোয়ারে বিধ্বস্ত হাতিয়ার বেড়িবাঁধ, জনমনে আতঙ্ক

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ১২:৫৩ পিএম

বৈরী আবহাওয়া ও অস্বাভাবিক জোয়ারে নোয়াখালীর হাতিয়ার চরঈশ্বর, নলচিরা, চরকিং ও সোনাদিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৮০০ মিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি অংশ পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ায় প্লাবিত হয়েছে বেশ কয়েকটি গ্রাম। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতের ব্যবস্থা না করলে বর্ষার শেষ দিকে প্লাবিত হওয়ার শংকায় চারটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।

প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষের বসবাস নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায়। ঝড় জলোচ্ছ্বাসসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ তাদের নিত্যদিনে সঙ্গী। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ দ্বীপটি। চলতি বর্ষার শুরুতে ভারি বৃষ্টি এবং মেঘনা ও বঙ্গোপসাগরের অস্বাভাবিক জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এ দ্বীপের বিভিন্ন এলাকায়। সপ্তাহের বেশি সময় জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি ছিলেন কয়েক লাখ মানুষ। 

দ্বীপটির মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে জোয়ারে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের কারণে।

নলচিরা ইউনিয়নের তুপানিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের পাশে বসবাস করেন রোকেয়া বেগম। বেড়িবাঁধের উপরে দেখা হয় তার সাথে। তিনি জানান, জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাতে তাদের পাশের বাঁধটি একেবারে সরু হয়ে গেছে। এটি যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে যেতে পারে। বাঁধ ভেঙে গেলে তাদের আর মাথা গোঁজার ঠাঁই হবে না।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমরা ভোট দিয়ে এমপি, চেয়ারম্যান, মেম্বার নির্বাচিত করেছি। এখন আমাদের দেখার কেউ নেই। তারা ঢাকাতে বসবাস করছেন, অথচ আমরা পানিতে ভাসার মতো অবস্থার মধ্যে আছি।

একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেক নামে এক বৃদ্ধ বলেন, রাতে জোয়ারের পানির স্রোতের আওয়াজে ঘুম আসে না। যেন বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে ভেঙে যাচ্ছে মনে হয়। বাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ার ভয়ে পরিবারের অনেকে অন্যত্র অবস্থান করছে। বাড়ির অনেক গুরুত্বপূর্ণ আসবাবপত্র অন্য জায়গায় নিয়ে রেখেছেন। 

আব্দুল খালেক আরও বলেন, এখন কাটাল শেষ হয়ে গেছে। এখন আর অধিক উচ্চতায় জোয়ারের সম্ভাবনা নেই। তবে আসছে কাটাল ও পূর্ণিমায় চিকন হয়ে থাকা এই বাঁধ ভেঙে গিয়ে বিশাল এলাকা প্লাবিত হবেই।

তিনি দ্রুত নলচিরা ইউনিয়নের উত্তর পাশে চারটি স্পটে বিধ্বস্ত হওয়া বেড়িবাঁধ দ্রুত সময়ের মধ্যে মেরামত করার দাবি জানান।

এদিকে গত কয়েকদিন আগে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪/৫ ফুট উচ্চতার জোয়ারের আঘাতে চরঈশ্বর ইউনিয়নের আফাজিয়া এলাকায় প্রায় ৩০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গিয়ে প্লাবিত হয়েছিল তিনটি গ্রাম। চরঈশ্বর ইউনিয়নরে ইউপি সদস্য আসার উদ্দিন জানান, তাৎক্ষণিক পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রচেষ্টায় ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ জিওব্যাগ দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। কিন্তু তার পাশে অধিক জোয়ারে ঢেউয়ের আঘাতে বিধ্বস্ত হওয়া বেড়িবাঁধ মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এই স্পটে বেড়িবাঁধ মাত্র একফুট কোথাও কোথাও এর চেয়ে কম, কোনোভাবে লেগে আছে। যা নিয়ে বাসিন্ধাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। 

একই অবস্থা সোনাদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাদিয়া গ্রামে। গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মন্নান জানান, এখানে অধিক জোয়ারে বিধ্বস্ত হওয়া বেড়িবাঁধ সাধারন মানুষ নিজেদের বাড়ির গাছের গোড়া, গাছের ঢাল পুঁতে দিয়ে মাটির বস্তা পেলে টিকিয়ে রেখেছে। তবে আসছে পূর্ণিমা জোয়ারে তা আর ধরে রাখা সম্ভব হবে না। এই গ্রামটি ঘনবসতি এলাকা এখানে বেড়িবাঁধ ভেঙে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ফসলি জমি, মাছের ঘের, কাঁচা গাছপালা, সড়ক, গবাদি পশু, বসত ঘরসহ বিভিন্ন স্থাপনা।

তিনি আরও জানান, জনপ্রতিনিধিদের কেউ এই এলাকায় আসেনি। নিজেরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজনকে সংবাদ দিয়ে এলাকায় এনে দেখিয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে বলে গেছে। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

বন্ধ করা হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ জলকপাট

স্থানীয় লোকজন শঙ্কা করছেন বর্ষার শেষের দিকে অস্বাভাবিক জোয়ারে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো দিয়ে আবারও পানি লোকালয়ে প্রবেশ করবে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ৪টি ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। তাই বড় ধরনের ক্ষতির আগে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে নোয়াখালী পানি উন্নয়ন বোর্ড উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, জামিল উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, এই বছর অস্বাভাবিক জোয়ারের পাশাপাশি অতিমাত্রায় বৃষ্টিপাত হয়েছে হাতিয়াতে। এতে নদীর পাশের চারটি ইউনিয়নের ৮০০ মিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতোমধ্যে আমাদের লোকজন এসব এলাকা পরিদর্শন করে এসেছে। বাস্তব চিত্র তুলে ধরে একটি প্রতিবেদন জেলা অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরটিভি/এমএইচজে