বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০৪:২৫ পিএম
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দিন দিন কমছে পাট চাষ। উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, শ্রমিকের মজুরি ও সার-কীটনাশকের দাম বেড়ে যাওয়া, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং বাজারে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা। ফলে একসময় ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে পরিচিত পাটের আবাদ এ অঞ্চলে এখন অনেকটাই সীমিত হয়ে পড়েছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৬৬ শতাংশের এক কুড়া জমিতে পাট চাষ করতে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। মৌসুম শেষে ওই জমিতে পাট উৎপাদন হয় গড়ে ৮ থেকে ১০ মণ। ভালো মানের পাটের সর্বোচ্চ বাজারদর মণপ্রতি প্রায় ২ হাজার টাকা হলে মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকা। এতে প্রতি কুড়া জমিতে কৃষকের লোকসান হয় প্রায় ১০ থেকে ১৪ হাজার টাকা। ফলে পাট চাষ করে লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের পাটচাষি মিজানুর রহমান বলেন, আগের মতো এখন আর পাট চাষ করি না। সার ও ওষুধের দাম বেড়েছে। পাশাপাশি বেড়েছে শ্রমিকের মজুরি। এ অঞ্চলে এখন অল্প পরিমাণে পাট চাষ হয়। অনেক কৃষক পাটের আঁশের জন্য না করে কচি পাটশাক বিক্রির জন্য চাষ করেন। গাছে শাক হলেই তা বাজারে বিক্রি করে দেন।
বড় মাছুয়া ইউনিয়নের কৃষক মিরাজ মিয়া বলেন, পাট চাষ করে যদি লোকসান হয়, তাহলে আগামী মৌসুমে আবার আবাদ করব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। এত কষ্ট করে ফসল ফলানোর পর ন্যায্যমূল্য না পেলে কৃষকদের আর কিছুই বলার থাকে না।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নের কিছু এলাকায় পাট চাষের জন্য মাটি উপযোগী। চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৩২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১০ হেক্টর জমিতে দেশি পাট চাষ করা হয়েছে। এ থেকে প্রায় ২৫ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। এছাড়া ২২ হেক্টর জমিতে তোষা পাটের আবাদ হয়েছে। এতে প্রায় ৬৬ টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৪২ লাখ টাকা।
বড় মাছুয়া ইউনিয়নের খেজুরবাড়িয়া ব্লকের মাঠকর্মী উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জহির আহমেদ বলেন, মঠবাড়িয়ার বিভিন্ন ব্লকে এ বছর ৩২ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়েছে। তবে অনেক কৃষক পাটের আঁশ সংগ্রহের পরিবর্তে কচি পাটশাক বিক্রি করে দিচ্ছেন। কৃষকদের পাট চাষে উৎসাহিত করতে এবং উৎপাদন বাড়াতে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। পাটের মান ভালো না হলে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা কঠিন। তাই উন্নতমানের পাট উৎপাদনে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুন নেছা সুমি বলেন, পাট দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহী করতে এবং উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। পাটের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এবং উৎপাদন খরচ কমানো সম্ভব হলে কৃষকেরা আবারও পাট চাষে আগ্রহী হবেন বলে আমরা আশা করি।
আরটিভি/এমএইচজে