images

দেশজুড়ে

বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়ল বিরল ‘প্যারটফিশ’

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০৬:২৭ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির একটি প্যারটফিশ (টিয়া মাছ)। প্রায় ৭০০ গ্রাম ওজনের মাছটি মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে আনার পর তা দেখতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। পরে নিলামে মাছটি ৩ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে চরমোন্তাজ এলাকার ‘এফবি ভাই ভাই’ ট্রলারে ধরা পড়া মাছটি মহিপুর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ফয়সাল ফিশ আড়তে আনা হয়। আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছটি ৩ হাজার টাকায় কিনে নেন আড়তের মালিক। পরে বিক্রির জন্য এটি বরফ দিয়ে সংরক্ষণ করে চট্টগ্রামে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়।

জানা গেছে, বাবুল মাতুব্বর মাঝির নেতৃত্বে ১৭ জন জেলে নিয়ে ট্রলারটি দুই দিন আগে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। জাল উত্তোলনের সময় ইলিশ, পোয়া ও অন্যান্য মাছের সঙ্গে বিরল এ প্যারটফিশটিও ধরা পড়ে।

জেলে বাবুল মাতুব্বর বলেন, রাতে জাল ফেলেছিলাম। পরে ইলিশ ও অন্য মাছের সঙ্গে এই মাছটিও উঠে আসে। আগে কখনও আমাদের জালে এমন মাছ ধরা পড়েনি।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডব্লিউসিএস ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান জানান, স্থানীয়দের বর্ণনা ও নমুনা অনুযায়ী মাছটি ব্লু-ব্যারিড প্যারটফিশ নয়; বরং এটি ‘ধোফার প্যারটফিশ’ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। স্কারিডি পরিবারের এই সামুদ্রিক মাছ সাধারণত প্রবালপ্রাচীর ও পাথুরে এলাকায় বাস করে।

তিনি বলেন, খাদ্যের সন্ধান, প্রজনন কিংবা সমুদ্রস্রোতের প্রভাবে এ ধরনের মাছ গভীর সমুদ্রে চলে আসতে পারে। ফলে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় মাঝে-মধ্যে জেলের জালে এমন বিরল মাছ ধরা পড়তে পারে।

তিনি আরও জানান, প্যারটফিশ প্রবালপ্রাচীরের ওপর জন্মানো শৈবাল খেয়ে প্রবালের সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি প্রবাল ক্ষয় করে সূক্ষ্ম বালু তৈরিতেও এ মাছের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

চট্টগ্রামে ১৫৫ কেজির কোরাল দেখতে জনতার ভিড় 

কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ধোফার প্যারটফিশ বাংলাদেশের জলসীমায় অত্যন্ত বিরল। আমাদের উপকূলে এ প্রজাতির মাছ সচরাচর দেখা যায় না।

আরটিভি/এসকে