images

দেশজুড়ে

বাবাকে করাত দিয়ে হত্যাচেষ্টা করে ছেলে, অতঃপর...

বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬ , ০৭:২০ পিএম

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নে বাবাকে করাত দিয়ে হত্যাচেষ্টা, পারিবারিক সহিংসতা এবং মাদকাসক্তির অভিযোগে মিরাজ আলী (২৪) নামে এক যুবককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা সুলতানা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের বিশমনি গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহিদুল ইসলাম তার ছেলে মিরাজ আলীর বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তার ছেলে দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং চুরি, মারামারি, অশান্তিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। তাকে একাধিকবার মাদকাসক্তি নিরাময়কেন্দ্রে পাঠানো হলেও ফিরে এসে পুনরায় মাদক সেবন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।

আরও পড়ুন
9

মানিকগঞ্জে ওসির কক্ষে আগুন

অভিযোগে আরও বলা হয়, মাদক কেনার টাকা না পেলে অভিযুক্ত বাড়ির মালামাল বিক্রি করে দেয়, গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করে এবং বাধা দিলে পরিবারের সদস্যদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এর আগে গাঁজা বিক্রির অভিযোগে দুইবার কারাভোগও করেছে সে। তার অত্যাচারে স্ত্রীও তালাক দিয়ে চলে যান।

সর্বশেষ গত ২২ জুলাই বাড়িতে অশান্তির একপর্যায়ে বাবা কারণ জানতে চাইলে মিরাজ আলী ঘর থেকে একটি করাত এনে বাবার গলায় ধরে জবাই করার চেষ্টা করে। এ সময় তার মা এগিয়ে এলে তাকেও হত্যার উদ্দেশ্যে তেড়ে যায়। পরে তারা দৌড়ে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। এ ঘটনার পর ভুক্তভোগী বাবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালতে শুনানিকালে মিরাজ আলী সবার সামনে স্বীকার করেন যে তিনি মাদক সেবন করেন। পরে তার বসতঘর তল্লাশি করে মাদক সেবনে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত উদ্ধার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি, অভিযোগের বিবরণ এবং ঘটনাপ্রবাহ বিবেচনায় আদালত তাকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড, ১০০ টাকা অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, মাদক, পারিবারিক সহিংসতা ও জনশৃঙ্খলা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আরটিভি/টিআর