শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ , ০৯:০৪ পিএম
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিজন কান্তি সরকার বলেন, আপনারা অনেকেই কাছে আমার কাছে এসে বলেন, আপনাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না, আপনারা এই দেশে থাকতে পারবেন না, আপনাদের সঙ্গে ভালো আচরণ করা হবে না। এসব কথা মিথ্যা প্রমাণ করতেই আমরা আজ আপনাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি।
তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কারও কথায় কান দেবেন না। আপনারা কান দেননি, আর কান না দিয়েই বিএনপিকে নির্বাচনে জয়ী করেছেন। এখন বিএনপির পালা। বিএনপি আপনাদের নিরাপত্তা দেবে, অধিকার দেবে, বিচার দেবে। আপনারা যেন বিচার পান, নিরাপত্তা পান, অধিকার পান। যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পান। শিক্ষা, হাসপাতালসহ সব জায়গায় আপনাদের ন্যায্য পাওনা যেন নিশ্চিত হয়।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকার ধামরাই পৌর এলাকার কায়েতপাড়া রথখোলায় শ্রী শ্রী যশোমাধবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার উল্টো রথ উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। এদিন উল্টো টানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় ধামরাইয়ের প্রায় ৪০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী যশোমাধবের রথযাত্রা। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে হাজারো ভক্ত অংশ নেন। তবে রথযাত্রা শেষ হলেও এ উপলক্ষে আয়োজিত মাসব্যাপী মেলা চলবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ ধামরাই আসনের সংসদ সদস্য তমিজ উদ্দিন, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জগন্নাথ মন্দির কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাস (অব:)। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক।
বিজন কান্তি সরকার বলেন, আমরা বকশিশ চাই না, হিসাবের পাওনা চাই। আমি সনাতনী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই।
তিনি বলেন, এর আগেও আমি এখানে এসেছি। কিন্তু আজকের মতো এত সুন্দর সমাবেশ দেখিনি। আমি ঘুরে বেড়িয়েছি, এমন ভিড়ও আগে দেখিনি। আওয়ামী লীগের আমলেও একবার পরিবার নিয়ে সাধারণ মানুষ হিসেবে রথযাত্রায় এসেছিলাম। কিন্তু আজ যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখছি, তা আগে দেখিনি। এতে বুঝতে পারছি, আপনাদের মনে অনেক প্রশান্তি ও আস্থা তৈরি হয়েছে। ভবিষ্যতেও সেই আস্থা থাকবে, আমরাও আপনাদের পাশে থাকব। সবাই মিলে বলি, জগন্নাথ দেব আমাদের মঙ্গল করবেন, সুস্থভাবে চলতে সহায়তা করবেন, আমাদের ধারণ করবেন এবং লালন-পালন করবেন।
গত ১৬ জুলাই যশোমাধবকে নিজ মন্দির থেকে মাসির বাড়িতে নেওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এ বছরের রথযাত্রা। শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে শুরু হওয়া এ উৎসবের আট দিন পর শুক্রবার উল্টো রথ টানের আয়োজন করা হয়। যাত্রাবাড়ী মন্দির থেকে রথ টেনে যশোমাধবকে আবার কায়েতপাড়া রথখোলায় নিয়ে আসেন ভক্তরা। এ সময় নারী-পুরুষের ঢল নামে রথের পথে। ভক্তরা চিনি ও কলা ছিটিয়ে ভক্তি নিবেদন করেন।
রথযাত্রা শেষ হলেও জমজমাট হয়ে উঠেছে মেলাপ্রাঙ্গণ। ধামরাই পৌর এলাকায় মাসব্যাপী চলবে এই মেলা। সেখানে বিভিন্ন খাবার, প্রসাধনী, খেলনা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রায় দুই শতাধিক দোকান বসেছে।
জগন্নাথ মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুকান্ত বণিক বলেন, উল্টো রথযাত্রার মধ্য দিয়ে এ বছরের রথযাত্রা উৎসবের সমাপ্তি ঘটেছে। সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে সুন্দরভাবে আয়োজন শেষ হয়েছে। রথ শেষ হলেও মাসব্যাপী মেলা চলবে।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, গত ১৬ জুলাই শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসব উল্টো রথের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। পুরো আয়োজন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
আরটিভি/ এসকেডি