images

দেশজুড়ে

মৌলভীবাজারে সংরক্ষিত বনভূমিতে উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে অপপ্রচার, বিএফএ’র প্রতিবাদ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৮:৩৬ এএম

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুরে সংরক্ষিত বনভূমিতে বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে ঘিরে অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একপাক্ষিক জনমত তৈরির অপচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ)।

শুক্রবার (২৪ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্প্রতি আদমপুর বিটে পরিচালিত বন বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এমনভাবে ঘটনাটি উপস্থাপন করছে, যেন বন বিভাগ বিনা কারণে ফলন্ত কমলা গাছ কেটে সাধারণ মানুষের ক্ষতি করেছে। বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন এই ধরনের একপাক্ষিক, আবেগনির্ভর ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

‘এটি সর্বজনবিদিত যে, সংরক্ষিত বনভূমি রাষ্ট্রের সম্পত্তি। বাংলাদেশ বন আইন, ১৯২৭ এবং প্রচলিত বন আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী সংরক্ষিত বনভূমিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অবৈধ দখল, বাণিজ্যিক চাষাবাদ, স্থাপনা নির্মাণ কিংবা অন্য কোনো ধরনের ব্যবহার আইনসম্মত নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় রাষ্ট্রের বনভূমি দখল করে অবৈধভাবে কমলার বাগান সৃষ্টি করা হয়েছে। একটি অবৈধ দখলকে বছরের পর বছর টিকিয়ে রেখে পরবর্তীতে সেই অবৈধ স্থাপনাকে "অর্জিত অধিকার" হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার কোনো সুযোগ আইনে নেই।’

আরও পড়ুন
CURRENT_20260403_194207178_20260404_081358007

আজ টানা ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায়

উদাহরণ দিয়ে সংগঠনটি জানিয়েছে, সরকারি জায়গায় বিশতলা বিশিষ্ট ইমারত তৈরি হলো কিন্ত অবৈধ; তখন সরকার কি সেই নির্মানাধীন অবৈধ ইমারত ভাঙতেছে না? তাহলে বন বিভাগ এখানে কি অপরাধ করলো ? দুঃখজনকভাবে, সাম্প্রতিক ঘটনায় বনভূমি দখলের মূল অপরাধটি আড়াল করে কেবল ফলন্ত গাছ কাটার আবেগঘন ছবি ও ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। 

‘এতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন এবং প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই—রাষ্ট্রের সংরক্ষিত বনভূমি অবৈধভাবে দখল করে রোপণ করা গাছ কখনোই বৈধ সম্পদে পরিণত হয় না। অবৈধ দখলের মাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া কোনো স্থাপনা বা বাগান আইনের চোখে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্য নয়।’

বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অবগত রয়েছে যে, সরকার ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় সংশ্লিষ্ট বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রচার করা শুধু অনভিপ্রেতই নয়, এটি বিচারাধীন বিষয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলতে চাই—যদি তদন্তে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার বা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়, বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের পক্ষে কোনো অবস্থান নেবে না; বরং আইনানুগ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিই জানাবে। একইভাবে, যদি প্রমাণিত হয় যে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আইন ও দাপ্তরিক নির্দেশনা অনুযায়ী রাষ্ট্রের বনভূমি রক্ষার দায়িত্ব পালন করেছেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অপপ্রচার, চরিত্রহনন এবং সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বনভূমি দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলেই বন কর্মকর্তাদের ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা এবং গণমাধ্যমে একপাক্ষিকভাবে দোষারোপ করার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সংস্কৃতি চলতে থাকলে মাঠপর্যায়ের বন কর্মকর্তারা ভবিষ্যতে বনভূমি রক্ষায় আইনগত পদক্ষেপ নিতে নিরুৎসাহিত হবেন, যার সুযোগ নেবে বনভূমি দখলকারী চক্র। এর দায় রাষ্ট্র ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বহন করতে হবে।

বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন দেশের সকল গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে—আবেগ নয়, আইনের শাসন ও সত্যকে প্রাধান্য দিন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পূর্বনির্ধারিত রায় প্রদান থেকে বিরত থাকুন। বনভূমি রক্ষা কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের একক দায়িত্ব নয়; এটি জাতীয় স্বার্থ, পরিবেশগত নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্বের প্রশ্ন।

বাংলাদেশ ফরেস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন পুনর্ব্যক্ত করছে—রাষ্ট্রের বনভূমি দখল, ধ্বংস ও অবৈধ ব্যবহারকে কোনো অবস্থাতেই বৈধতা দেওয়া যাবে না। বন আইন প্রয়োগে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইনসম্মত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা অপপ্রচারের মাধ্যমে নিরুৎসাহিত করার যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার থাকব।

আরটিভি/এসআর