images

দেশজুড়ে

ছয় বছর ধরে ‘থমকে আছে’ ঝিনাইদহ-যশোর সিক্সলেন প্রকল্পের কাজ

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ১০:০০ এএম

ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণ করে বুঝিয়ে দেওয়ার পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম গাফিলতি ও উদাসীনতায় ঝুলে গেছে নির্মাণকাজ। একদিকে যেমন প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হতে চলেছে, অন্যদিকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর চরম ব্যর্থতায় মহাসড়কজুড়ে সৃষ্টি হওয়া খাদ ও খানাখন্দে জনভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক দপ্তরের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কালীগঞ্জ এলাকার ৪৫ শতাংশ এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকার প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে ইতিমধ্যে উইকেয়ার (ডবঈঅজঊ) প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিয়েছে। প্রশাসনিক সব সুযোগ-সুবিধা ও জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও রাস্তা নির্মাণ কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি মিলছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পের গতি থমকে থাকার পেছনে আগে জমি অধিগ্রহণের কথা বলা হলেও এখন মূল দায়ভার গিয়ে পড়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লি. এবং লট-১ এর দায়িত্বে থাকা ম্যাক্স (গঅঢ) ফার্মের লোকাল প্রতিনিধির ওপর। অভিযোগ রয়েছে, দ্রুত প্রশাসনিক সহযোগিতা পাওয়া সত্ত্বেও দুই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পরিচালনায় চরম গড়িমসি ও টালবাহানা করছে।

জানা গেছে, জমি অধিগ্রহণের সঙ্গে সরকারের ৬টি বিভাগ জড়িত ছিল। ৬ বিভাগের সমন্বয়হীনতার কারণে মূলত তারা জরিপ ও পরিদর্শন রিপোর্ট তৈরিতে দেরি করেছে। ফলে জমি অধিগ্রহণে ধীরগতি পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এখন ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে পুরোদমে জমির মালিকদের প্রাপ্য টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ বলেন, তিন সপ্তাহর মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। এ কাজে আমাদের কোনো গাফিলতি নেই, বরং দ্রুততার সঙ্গে অধিগ্রহণের কাজ চলছে। প্রকল্পটি যাতে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে সহায়ক হয় সেভাবেই আমরা অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।  

কাজের ধীরগতির বিষয়ে জানতে চাইলে লট-১ এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নিলন আলী বলেন, আগে জমি অধিগ্রহণে ধীরগতির কারণে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সময়মতো কাজ শুরু করতে পারেনি। মার্চ ও জুলাই মাসে আমরা বেশকিছু জমি বুঝে পেয়েছি, তাই এখন কাজও দ্রুত গতিতে বাড়বে।

তিনি তাদের কাজ ১০ শতাংশের মতো এগিয়েছে দাবি করে বলেন, আগামী সপ্তাহ থেকে সড়কের কাজ দৃশ্যমান শুরু হবে বলে আশা করছি।

কাজের অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে গেলে লট-২ ও ৩ এর প্রকল্প ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন বলেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে কোনোভাবেই কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে জমি পাওয়ার পরও ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে এখন পর্যন্ত মাত্র দুই শতাংশ কাজ হয়েছে। কাজের গতি বাড়ানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বারবার তাগিদ ও চিঠি দেওয়া হলেও তারা কোনো তোয়াক্কা করছে না বলে তিনি দাবি করেন।

এদিকে সড়কজুড়ে কচ্ছপগতির এই কাজের কারণে চরম বিপাকে পড়েছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষ। বিশেষ করে ভোমরা, বেনাপোল, মংলা বন্দরের মালামাল উত্তরবঙ্গসহ দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছানোর এক মাত্র সড়ক পথ ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক।

ভুক্তভোগী বসির উদ্দীন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুনেছি জেলা প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ করে জমি বুঝিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার ও তাদের প্রতিনিধির খামখেয়ালিপনায় পুরো রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা, গর্তের কারণে যানবাহন চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। মুমূর্ষু রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটছে।

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

দুর্নীতির অভিযোগে প্রকৌশলী দম্পতিকে দুই শহরে বদলি

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে ৪ হাজার ১৮৭ কোটি টাকায় অনুমোদিত এই প্রকল্পের ব্যয় সংশোধনের পর বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৬২৬ কোটি টাকায়। কাজের অগ্রগতি না থাকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডাইরেক্টর জোঁ পেম ও অপারেশন ম্যানেজার গেইল মার্টিন। তারা গত ১৯ জুলাই ঝিনাইদহ সফর করে সরজমিন প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। ঝিনাইদহ সফরকালে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এটা বর্ধিত হবে কিনা তা বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত হবে।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেন, দ্রুত গতিতে কাজ সম্পন্ন করা হবে।

আরটিভি/এমএইচজে