শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৪:৩৬ পিএম
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর গ্রামে স্বামী পরিত্যক্তা, পিতা-মাতাহীন এক শারীরিক ও আংশিক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী নারী ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তার অনাগত সন্তানের পিতৃত্ত নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ ও পালটা বক্তব্য সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার বাবলু শেখ নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী তার কোনো খোঁজখবর নেন না। বিয়ের পরও তিনি মায়ের সঙ্গে মামা বাড়িতে বসবাস করতেন। মা মারা যাওয়ার পর জীবিকার তাগিদে বিভিন্ন বাড়িতে গৃহস্থালির কাজ করে জীবনযাপন করেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রতিবেশী অহিদ শেখের বাড়িতে কাজ করার সুবাদে তার ছেলে মেহেদী হাসান শেখের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক হয়। তবে মেহেদী হাসানের বাড়ি থেকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে তার ছেলের কথা বললে তাকে মেরে ফেলা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে মেহেদী হাসান শেখের বাবা অহিদ শেখ বলেন, আমার ছেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা প্রমাণিত নয়। ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হোক। আমার ছেলে জড়িত প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী যে শাস্তি হবে, তা আমরা মেনে নেব।
তবে স্থানীয়দের দাবি, একই গ্রামের বাসিন্দা তারা শেখ, সায়েম শেখ তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে ইতঃপূর্বে অভিযোগ তুলেছেন ওই নারী। তবে এবার ভয়ভীতি দেখানোতে অনাগত সন্তানের জনকের বিষয়ে মেহেদী হাসানের কথা বলছেন তিনি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ভুক্তভোগী দীর্ঘদিন অহিদ শেখের বাড়িতে যাতায়াত করতেন। সম্প্রতি তার গর্ভধারণের বিষয়টি নজরে এলে কয়েকজন নারী তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তবে তিনি বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করায় অনাগত সন্তানের পিতৃত্ত নিয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযুক্ত মেহেদী হাসান শেখ গণমাধ্যমকে বলেন- আমাদের বাড়িতে ওই নারী যাওয়া আসা করত এটা ঠিক। মূলত ভুক্তভোগীর সঙ্গে তারা শেখ, সায়েম শেখ অনৈতিক কাজ করছে; যা এলাকার অনেকেই জানে। ওই নারী একা-একা তাদের বাড়িতেই থাকেন। তাকে ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে আমার নাম বলানো হচ্ছে। অনাগত সন্তানটির ডিএনএ টেস্ট করা হোক, আমার সঙ্গে যদি সম্পৃক্ততা পায়, দেশের আইনে যে বিচার আছে তা আমি মাথা পেতে নেব।
অন্যদিকে তারা শেখ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
শেখর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রিজাউল মেম্বার বলেন, বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে তার সত্যতা নিশ্চিত করতে মেডিকেল পরীক্ষা করা উচিত। তদন্তে কেউ দায়ী হলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্কতা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। আমি এখনই একজন অফিসার পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
আরটিভি/এমএইচজে