images

দেশজুড়ে

পানি নামতেই তিস্তার দুই তীরে ভাঙন, এলাকাবাসীর দাবি স্থায়ী সমাধান

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬ , ০৬:০৭ পিএম

তিস্তা নদীর গতিপথ পরিবর্তনে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ভাঙনের মুখে পড়ছে। একের পর এক বিলীন হচ্ছে চাষের জমি, বসতভিটা। ভাঙন থেকে বাঁচতে তিনদিনে বসতভিটা সরিয়ে নিতে হয়েছে শতাধিক পরিবারকে।

স্থানীয়দের দাবি, জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানো গেলেও স্থায়ী সমাধান মিলবে না। তিস্তা খনন ছাড়া এই সংকটের কোনো বিকল্প নেই।

শনিবার (২৫ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার ঝুনাগাছ চাঁপানী ও খালিশাচাঁপানী ইউনিয়নের বাইশপুকুর, ডালিয়া, ছাতুনামা, কেল্লাপাড়া, ভেন্ডাবাড়ির নদীতীরবর্তী এলাকায় গেলে ক্ষতিগ্রস্তদের আহাজারি শোনা যায়।

Web-Image

দেখা যায়, কোলকোন্দ ইউনিয়ন পরিষদের পাশের ভাঙনকবলিত এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পক্ষ থেকে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে। নদীর কিনারায় দাঁড়িয়ে উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে সেই কাজ দেখছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অনেকেই বলছিলেন, এটি সাময়িক ব্যবস্থা হলেও স্থায়ী সমাধান নয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এবার কিন্তু নদীর ডান আর বাম—দুই তীরেই ভাঙন শুরু হয়েছে। কারণ, নদীর তলদেশ পলিতে ভরে গেছে। নদী আর পানি ধারণ করতে পারছে না। ফলে পানির চাপ দুই তীরে গিয়ে পড়ছে। তাই দুই পাশেই ভাঙন হচ্ছে। এই ভাঙন বন্ধ করতে হলে নদী খননের কোনো বিকল্প নেই। জিও ব্যাগ ফেলে কত দিন রক্ষা হবে? এ বছর হয়তো থাকবে, আগামী বছর আবার ভাঙবে। এতে শুধু সরকারি টাকার অপচয়। স্থায়ী সমাধান চাইলে নদী খনন করতে হবে। নদী খনন হলে ডান-বাম কোনো তীরই ভাঙবে না।

আরও পড়ুন
Web-Image

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, পানি ঢুকছে নিম্নাঞ্চলে

এ বিষয়ে নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, আমার ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাচারিপাড়া এবং ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাগডহড়া গ্রামের ২২টি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এখনো শতাধিক পরিবার ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।’

কোলকোন্দ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান শরিফুল ইসলাম বলেন, যে জায়গায় কোনো দিন ভাঙার কথা ছিল না, সেখানেই এবার ভাঙন শুরু হয়েছে। নদীর মাঝখানে চর জেগে ওঠায় পানির স্রোত দুই তীর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দুই পাশেই ভাঙন বাড়ছে। নদীর মাঝের বালু অপসারণ করে নদী খনন করা গেলে এ পরিস্থিতি তৈরি হতো না।

Web-Image

রংপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী বলেন, আমি সব সময়ই সংসদে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছি। আমরা চাই সরকার দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করুক। একই সঙ্গে তিস্তার ডান ও বাম তীরে যে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে, তা রোধে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আরটিভি/এমএ